Advertisement
E-Paper

প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি রুখতে সিসিটিভি বাধ্যতামূলক হতে পারে দোকানে, প্রস্তাব কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের

ওষুধ বিক্রিতে নজরদারি বাড়াতে ১৯৪৫ সালের ড্রাগ্‌স বিধিতে সংশোধনের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের। খুচরো ওষুধের দোকানে বাধ্যতামূলক হবে সিসিটিভি। অন্তত তিন মাস সংরক্ষণ করতে হবে ফুটেজ। তবে ছাড় পাচ্ছেন পাইকারি বিক্রেতারা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:১৮

ছবি: সংগৃহীত।

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি ঠেকাতে এ বার কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র। খুচরো ওষুধের দোকানে নজরদারি বাড়াতে সিসিটিভি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিল স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ১৯৪৫ সালের ড্রাগ্‌স বিধি সংশোধন করে এই নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে এ বিষয়ে একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মেনে যে সমস্ত ওষুধ বিক্রি হবে, তার পুরো প্রক্রিয়াটি হতে হবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধের দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে। শুধু তা-ই নয়, ওই সিসিটিভি ফুটেজ তিন মাস সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। তবে পাইকারি ওষুধ বিক্রেতাদের এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

এই প্রস্তাবটি ‘ড্রাগ্‌স কনসালটেটিভ কমিটি’তে (ডিসিসি) আলোচনার পর তা খতিয়ে দেখেছেন ‘ড্রাগ্‌স টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজ়রি বোর্ড’-এর (ডিটিএবি) সদস্যেরা। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল প্রেসক্রিপশন ছাড়া বেআইনি ভাবে ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা এবং ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ হওয়া। এই নিয়ম বাস্তবায়িত হলে ওষুধ বিক্রির একটি ‘ভিজ়ুয়াল রেকর্ড’ থাকবে। এর ফলে নিয়ম লঙ্ঘনের কোনও অভিযোগ উঠলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি তা সহজেই তদন্ত করে দেখতে পারবে।

বর্তমানে ১৯৪৫-এর বিধির তফসিল এইচ, এইচ ১ এবং এক্স-ভুক্ত ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু কড়া নিয়ম রয়েছে। তবে, প্রস্তাবিত এই সিসিটিভি নজরদারির নিয়মটি শুধুমাত্র ওই নির্দিষ্ট তালিকার ওষুধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। কাফ সিরাপ-সহ সমস্ত প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধের ক্ষেত্রেই এই নিয়মটি প্রযোজ্য হবে বলে মন্ত্রক সূত্রে খবর।

চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ওষুধ, বিশেষত কাফ সিরাপের মতো ওষুধের অপব্যবহার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞেরা। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় ওষুধ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সেই দিকটি মাথায় রেখেই দেশ জুড়ে প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে নজরদারি আরও কড়া করতে চাইছে সরকার।

ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত এই সংশোধনীর বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জমা পড়া মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনার পরেই সরকার এই খসড়া নিয়ম চূড়ান্ত ভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেবে। কেন্দ্রীয় ওষুধ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (সিডিএসসিও) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ১৯৪৫ সালের ড্রাগস বিধিতে এমন একাধিক সংশোধনী প্রস্তাব আনছে কেন্দ্র, যার মধ্যে প্রেসক্রিপশন নিয়ন্ত্রণ এবং ওষুধের তালিকা বা তফসিলের পরিবর্তনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Pharmacy CCTV Union Health Ministry

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy