স্বাধীনতা দিবসে তরুণ প্রজন্মের ভূয়সী প্রশংসা করলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। আজ সুপ্রিম কোর্টে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পরে বক্তৃতায় তিনি তরুণ আইনজীবীদের প্রযুক্তি-দক্ষতা ও বিচার ব্যবস্থায় অবদানের কথা উল্লেখ করে জানান, তাঁদের দক্ষতার উপরে আস্থাশীল হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। হায়দরাবাদের নালসার (ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব লিগ্যাল স্টাডিজ় অ্যান্ড রিসার্চ) সংক্রান্ত বিতর্কের আবহে প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “তরুণ প্রজন্মের বহু গুণ রয়েছে। ফলে তাঁদের সম্পর্কে দেশের আস্থাশীল হওয়ারও যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাঁরা এমন একটা বিশ্বে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে যোগাযোগ এবং জ্ঞান আহরণের ধরনে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে প্রযুক্তি। তরুণ প্রজন্ম সেই পরিবর্তনটাই এজলাসে নিয়ে এসেছেন। একই সঙ্গে সমাজের বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও তাঁরা বড় অবদান রেখেছেন।” তাঁর মতে, তরুণ আইনজীবীরা সংবেদনশীলতার সঙ্গে সাম্য, অন্তর্ভুক্তি ও বিচার পাওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা মনে করেন, আইনকে জীবন ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে কেন্দ্র বিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশি অভিযানের বিরুদ্ধে এক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই সময়ে প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক হয়। এই প্রেক্ষিতে নালসারের পড়ুয়ারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে প্রধান বিচারপতিকে সমাবর্তনে আমন্ত্রণ জানানোয় আপত্তি তোলেন। বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া এর পরে একটি নির্দেশিকায় ২০২৬ সালের পড়ুয়াদের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই পদক্ষেপে প্রধান বিচারপতিও উষ্মা প্রকাশ করলে নির্দেশিকা বাতিল করে বার কাউন্সিল। আজ সংস্থার প্রধান মনন কুমার মিশ্র ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
আজ প্রধান বিচারপতির মন্তব্য করেন, “এটা আমার এবং পড়ুয়াদের মধ্যে চলা একটি প্রক্রিয়া। এতে ওঁরা (বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া) পদক্ষেপ করার কে?” এর পরেই তরুণ আইনজীবীদের প্রশংসা করে বার্তা দিলেন তিনি। জানালেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিচারব্যবস্থা যে দায়িত্ব পালন করে আসছে, ভবিষ্যতে তার ভার তরুণ প্রজন্মের কাঁধে চাপবে। তাঁদের আগামী দিনের যাত্রায় ‘বার’ ও ‘বেঞ্চ’ পাশে থাকবে।