আজ বৃষ্টিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের জনতার অপসারণ কর্মসূচি পিছিয়ে গেল ঠিকই। কিন্তু রাজাজি মার্গ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে সংসদ মার্গে বিজেপির মদতপুষ্ট সংস্থা ‘সিটিজ়েনস ফর ডেমোক্রেসি’ আয়োজন করল ছদ্ম সংসদ। সেখানে ‘গণতন্ত্র বনাম নৈরাজ্য’কে বিষয়বস্তু করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে একহাত নেওয়া হল নাটিকার মাধ্যমে। ‘সড়ক নয় দেশ চলবে সংসদের নির্দেশে’ এই ভাষ্যকে তুলে ধরলেন অমিত শাহ, শিবরাজ সিংহ চৌহান, স্মৃতি ইরানি, অর্জুন মেঘওয়ালের মতো নেতা-মন্ত্রীর ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিরা।
অন্য দিকে, রাহুল ও খড়্গের চরিত্রাভিনেতারা সাজানো সংলাপে ট্রেজারি বেঞ্চের হাতে ফুলটস বল তুলে দিতে থাকলেন এক এক করে। বিরোধী বেঞ্চে ছিলেন সনিয়া গাঁধী, সুপ্রিয়া সুলে, মহুয়া মৈত্র, অখিলেশ যাদব, পবন খেরার চরিত্রাভিনেতারাও। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা জানালেন, এক জন বিজেপির বিধায়ক, সাংসদও উপস্থিত নেই গোটা অনুষ্ঠানে।
অথচ রাজনৈতিক সূত্রের মতে, পুরোটাই হল গেরুয়া শিবিরের নিপুণ সংলাপ-ভাষ্য এবং নির্দেশনায়। কিন্তু তাঁরা সামনে না এলেও, ‘ভারত মাতা কি জয়’ থেকে শুরু করে গ্যালারি থেকে ‘মোদী মোদী’ ধ্বনিতে পরিচিত বিজেপি সমাবেশের ছবিইফুটে উঠেছে।
এই ছদ্ম সংসদের পরিসরে কংগ্রেস তথা বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’র সাম্প্রতিক দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের পাল্টা ভাষ্য তৈরি করা হয়েছে। গোটা আন্দোলনকেই দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘নৈরাজ্য’ বলে। ককরোচ বা যুবশক্তিকে বিদ্ধ না করে গোটা শহরে নৈরাজ্য তৈরির দায় মূলত কংগ্রেসের উপরে চাপানো হয়েছে। সম্প্রতি খড়্গের বিহারের সমাবেশে করা মোদী সংক্রান্ত উক্তি নিয়ে তাঁকে বিঁধেছেন ছদ্ম বিজেপির সাংসদরা। ইতিহাস তুলে এনে বলা হয়েছে, কংগ্রেস জমানায় কত বার ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন করা হয়েছিল।
এই গোটা উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, “বিজেপি-ঘনিষ্ঠ মহল আজ যে একটি ছদ্ম সংসদের আয়োজন করেছে, এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। কারণ, ২০১৪ সাল থেকেই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধারাবাহিক ভাবে সংসদকে প্রহসনে পরিণত করেছেন। একের পর এক বিলে কার্যত বুলডোজার চালিয়ে পাশ করানো হয়েছে, জনস্বার্থে জরুরি বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি, সংসদীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে হেয় করা হয়েছে এবং সংসদের দুই কক্ষকেই আত্মপ্রচারের মঞ্চে পরিণত করা হয়েছে।”
পাশাপাশি, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেন, “বিজেপি ১২ বছর ধরে সংসদকে প্রহসনে পরিণত করার পর এখন বিজেপি-সমর্থিত সংগঠনগুলি ছদ্ম সংসদের আয়োজন করছে।”
এক্স-এ তিনি লেখেন, ‘প্রথমে সংসদকে রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ এবং বিল পাশ করানোর জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোর খাটানো, আর এখন ‘মক পার্লামেন্ট’ আয়োজন করে গণতন্ত্রকেই নিষ্ঠুর পরিহাসের বিষয় করে তোলা! বাহ মোদীজি, বাহ’!