E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

নাম বাদ গেলে প্রকল্প থেকেও বাদ, আশঙ্কা আলোচনাচক্রে

এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে যাঁদের নাম একেবারে চূড়ান্ত তালিকাতেও স্থান পাবে না, তাঁদের ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে যাঁদের নাম একেবারে চূড়ান্ত তালিকাতেও স্থান পাবে না, তাঁদের ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। চর্চা শুরু হয়েছে, যদি কারও নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় না থাকে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা থেকেও কি তাঁর নাম বাদ যাবে? আজ দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর)প্রভাব (মূলত মালদহ ও মুর্শিদাবাদ) সংক্রান্ত আলোচনায় এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন একাধিক বক্তা।

ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম নূর বলেন, ‘‘আমার এলাকায় বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। মৃত ভোটারের নাম আবার রয়ে গিয়েছে। মালদহে প্রায় ৮.৫ লক্ষ ও মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১.৫ লক্ষ ভোটারের নাম অ্যাজুডিকেশন বা বিবেচনাধীনের তালিকায়।এঁরা সকলেই ভারতীয়। কয়েক পুরুষের ভোটার।’’

সমাজকর্মী নাদিম খানের মতে, ‘‘যাঁদের নাম বাদ পড়ছে তাঁরা অধিকাংশ গরিব। ট্রাইবুনালে আবেদন সত্ত্বেও যাঁদের নাম বাদ চলে যাবে, তাঁদের অধিকাংশের সেই আর্থিক ক্ষমতা নেই যে পরবর্তী ধাপে আদালতের দ্বারস্থ হবেন।’’

আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মতে, এটা হতেই পারে যে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় রেশনপ্রাপকদের তালিকা থেকেও নাম বাদ যেতে পারে। একাধিক বক্তার আশঙ্কা, এই নাম কেটে যাওয়ার প্রভাব সূদুরপ্রসারী। ইতিমধ্যেই নাম নেই, এমন ব্যক্তিদের পাসপোর্ট পুনর্নবীকরণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে গ্রামের বহু যুবক যাঁরা উপসাগরীয় দেশগুলিতে শ্রমিকের কাজে যান, তাঁদের পাসপোর্টপেতে বা পুনর্নবীকরণে সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া, গ্রামীণ এলাকায় ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা যাঁরা পান, ভোটার তালিকা থেকে নাম যাওয়ার কারণে সেগুলি থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন তাঁরা।

আলোচনায় অধিকাংশ বক্তা অভিযোগ করেন, গোটা এসআইআর প্রক্রিয়াটি করা হয়েছে মুসলিমদের নিশানা করে। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের ‘যোগসাজশে’ বিবেচনাধীন তালিকাভুক্তদের অধিকাংশমুসলিম বলে দাবি করেছেন নামিদ খান-প্রশান্ত ভূষণেরা।

সমাজকর্মী সাবির আহমেদের পর্যবেক্ষণ, পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতার দু’টি কেন্দ্রে— নন্দীগ্রামে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি ও ভবানীপুরে ২০ শতাংশ মুসলিম ভোটারের নাম পড়েছে। নাদিমের দাবি, গোটাটাই করা হচ্ছে বিজেপি প্রার্থীদের জেতানোর লক্ষ্যে। সার্বিক ভাবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় হিন্দুদের নামও বাদ পড়েছে। তবে সাবিরের দাবি, নিম্নবর্ণের হিন্দুদের তুলনায় উচ্চবর্ণের হিন্দুদের নাম অনেকাংশেই কমকাটা গিয়েছে। আর যাঁদের নাম কাটাকুটির এই খেলায় জড়িয়ে গিয়েছে, নাম বাদ যাওয়ার ভয় তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে নেতিবাচক, চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Murshidabad SIR

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy