পুলিশি তলবে বৃহস্পতিবার হাজিরা দেননি সিজেপির তিন নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্ক শিন্দে। বৃহস্পতিবারই এই তিন জনকে তলব করেছিল দিল্লি পুলিশের অপরাধদমন শাখা। দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তিন জনকে ফের নোটিস পাঠিয়ে তলব করা হবে।
দিল্লির এক পুলিশ আধিকারিক বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, সৌরভ, রাঙ্কা এবং অজিঙ্ককে তদন্তে সহযোগিতার জন্য ফের তলব করা হবে। আবার নোটিস পাঠানো হবে তাদের। ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তলবের পর অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন সৌরভ, রাঙ্কারা। বৃহস্পতিবার তাঁরা হাজিরা দেননি। পুলিশ ফের কবে তাঁদের তলব করতে চলেছে, তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-ও এই বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করেনি।
আরও পড়ুন:
যন্তর মন্তরে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ানো এবং স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় দু’টি এফআইআর করেছিল পুলিশ। দু’টি মামলার তদন্তভারই তুলে দেওয়া হয়েছে অপরাধদমন শাখার হাতে। জোড়া এফআইআর-এর সূত্রেই তিন সিজেপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় দিল্লি পুলিশের অপরাধদমন শাখা।
গত ১৩ অক্টোবর লোহার গেট টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকেছিলেন সৌরভ, রাঙ্কা এবং শিন্দে। তাঁদের সঙ্গে সিজেপির আরও কিছু সমর্থক সেখানে প্রবেশ করেন। তার আগের দিনই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তর বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে আটক করার পর অজিঙ্ক এবং বাকিদের পুলিশ ছেড়ে দেয়। কিন্তু গ্রেফতার করা হয় সৌরভ এবং রাঙ্কাকে। আগেও শান্তি ভঙ্গ না করার বন্ডে সই করেছিলেন তাঁরা। স্পেশ্যাল এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন। পরে তা আরও দু’দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সাত দিন তিহাড়ে কাটানোর পর বুধবার সৌরভ এবং রাঙ্কা মুক্তি পেয়েছেন। ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়েছে। তার পরের দিনই দিল্লির রজৌরি গার্ডেনে অপরাধদমন শাখার দফতরে তিন জনকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হল।
উল্লেখ্য, রাঙ্কাদের জামিন দিলেও বিচারক জানিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে। আগামী শুক্রবার স্পেশ্যাল এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে আবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। অন্য দিকে, দুই নেতার জেলমুক্তির পর নতুন করে আন্দোলন শুরু করতে মরিয়া সিজেপি। দলের প্রধান অভিজীত দিপকে ফের পথে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন বুধবার রাতেই। কিন্তু সৌরভ এবং রাঙ্কা আদালতে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন যে, তাঁরা আইন মেনে চলবেন। ভবিষ্যতের যাবতীয় প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে সাংবিধানিক কাঠামো মেনে। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ যত দিন আইনত নিষিদ্ধ থাকবে, তত দিন তাঁরা সেখানে কোনও আন্দোলনের ডাক দেবেন না।