ইরানকে যুদ্ধের গতি আরও বাড়ানোর হুমকি দিলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জবাবে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, আমেরিকার সেনাবাহিনীকে স্বাগত জানাতে তাঁর দেশের মানুষ প্রত্যেকটা মিনিট গুনছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে বাঘেই বলেন, ‘‘এর পরিণতি ওদের ভুগতে হবে।’’ এই অবস্থায় বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞেরা। সংসদের বাদল অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ বলেন, ‘‘পেট্রল, ডিজ়েল, এলপিজি, সার এবং রাসায়নিকের সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটার ফলে জ্বালানি নির্ভর এ দেশের সামনে এক গভীর সঙ্কট তৈরি হয়েছে।’’
মোদী আরও বলেন, ‘‘এই ঝোড়ো বাতাসের মধ্যেও ভারত তার আর্থিক বৃদ্ধির হারকে ৭.৭ শতাংশে নিয়ে যেতে পেরেছে। বিশ্বের দ্রুততম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। দেশের এই আর্থিক বৃদ্ধি তার সক্ষমতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিকেই তুলে ধরছে।’’ উন্নয়নের এই ধারাকে কাজে লাগানোর জন্য সাংসদদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এ দিকে, ইরান-আমেরিকা অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি নামেই সই হয়েছে। তা চূড়ান্ত হওয়ার কোনও আশা দেখা যাচ্ছে না। দু’দেশের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে গত সপ্তাহে দুই আমেরিকান সেনার মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক জন, হাওয়াইয়ের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সি টাইলার জেমস ফিহান, অন্য জন টেক্সাসের বাসিন্দা মাত্র ১৯ বছর বয়সি ইজ়াবেলা গনজ়ালেস। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, দু’জনেই জর্ডনে প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে প্রাণ হারান ওই দুই সেনা। এই নিয়ে ইরান-যুদ্ধে নিহত আমেরিকান সেনার সংখ্যা দাঁড়াল ১৭। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের হুমকি ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক বাড়ছে। ইরানের তেল ভান্ডারের প্রাণকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ। এই দ্বীপ থেকে ৯০ শতাংশ জ্বালানি রফতানি করে ইরান। ট্রাম্পের হুমকি, এ বার সেই দ্বীপ দখল করা হবে। আকাশপথে হামলার পাশাপাশি এ বারে স্থলপথে আগ্রাসনের পরিকল্পনাও নিচ্ছে আমেরিকা।