কূটনৈতিক পরিধির বাইরে চলে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ক্রমশ রহস্য রোমাঞ্চ চিত্রনাট্যে পরিণত! গত কয়েক দিন ধরেই তাঁর ‘যেতে পারি কিন্তু কেন যাব’-র দ্বিধা এবং বিভিন্ন সম্ভাবনার ঢেউ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। আজ রাষ্ট্রপতি ভবনে তারেকের নয়াদিল্লি আসা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেও তা প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং বিদেশ মন্ত্রকের উত্তরে নীরব থাকার পর, কিছুটা হালকা চালে এমনটাই বলছে কূটনৈতিক মহল।
আজ তারেকের আসা না আসা নিয়ে যা ঘটল, তাকে বিরলের মধ্যেও বিরলতম বলা যায় কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। দুপুর ২টো নাগাদ রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার, ২২ অগস্ট রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গণে (ফোরকোর্ট) নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান হবে না। কারণ হিসেবেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করা হয়। বিদেশ মন্ত্রককে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলা হয়, এই খবরটি ভুল। অসমর্থিত সূত্রের খবর, শুধু এই বিবৃতিটিই নয়, কারও কারও কাছে নৈশভোজের আমন্ত্রণও পৌঁছে গিয়েছিল। বিবৃতিটি সাংবাদিকদের কাছে মেলের মাধ্যমে চলেও আসে। এর কিছুক্ষণ পর বিকেল ৩টে নাগাদ রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে নতুন একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়, আগের প্রেস বিবৃতিটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। কেন প্রত্যাহার করা হল, কেনই বা দেওয়া হল, কার নির্দেশ বা পরামর্শ ছিল— সেই বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়ালকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, তাঁর কাছে এই নিয়ে নতুন তথ্য নেই। কোনও খবর এলে তিনি তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দেবেন।
প্রসঙ্গত, নয়াদিল্লির তরফ থেকে ‘বিশেষ সম্মান’ দিয়ে তারেককে আনার বার্তা দেওয়া হলেও কোনও সাড়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি ঢাকার পক্ষ থেকে।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শুরু হওয়ার বাকি দিন কুড়ি। এর মধ্যে তারেকের সফর নিয়ে আবারও কোনও নাটকীয়তা অপেক্ষমাণ কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপরে চাপ রয়েছে বিরোধী জোট জামায়েতে ইসলামী এবং এনসিপি-র। দেশের বেহাল অর্থনীতি এবং জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যে ভারতের পাশে থাকা তারেক সরকারের কাছে অত্যন্ত জরুরি হওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনা কাঁটায় তাঁর সফর আটকে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।