প্রথমে ইউএপিএ বা বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ধারা প্রত্যাহার। পরে অভিযুক্ত বিদেশিদের এক মাসের জন্য দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য জামিন। কংগ্রেসের অভিযোগ, আমেরিকার চাপেই এ ভাবে মাথা নত করে জঙ্গি কার্যকলাপে অভিযুক্তদের ছাড়তে বাধ্য হল কেন্দ্র। ওই জামিন শর্তাধীন হলেও নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়া ব্যক্তিরা আর ভারতে ফিরে আসবে না বলেই দাবি বিরোধীদের।
এ বছরের ১৩ মার্চ কলকাতা বিমানবন্দর থেকে আমেরিকার নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইককে গ্রেফতার করে এনআইএ। ওই দিনই লখনউ ও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ম্যাথুর মোট ছয় ইউক্রেনীয় সঙ্গীকেও গ্রেফতার করা হয়। সূত্রের মতে, এরা পর্যটক ভিসা নিয়ে ভারতে এসে পরে অবৈধ পথে মায়নমারে ঢোকে। সেখানে ভারত-বিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্র চালনা ও ড্রোনের মাধ্যমে হামলার প্রশিক্ষণও দেয়। সাত জনের বিরুদ্ধেই ইউএপিএ-তে অভিযোগ দায়ের হয়। কিন্তু ৮ সেপ্টেম্বর এনআইএ-র আদালতে শুনানির সময়ে দেখা যায়, আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে কেবল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স আইন, (২০২৫)-এর ২১ ও ২৩ নম্বর ধারাতেই অভিযোগ এনেছে এনআইএ। জঙ্গি কার্যকলাপে মদতের মতো গুরুতর ধারা নয়, উপযুক্ত কাগজ ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে শুধু। পরশু ম্যাথুদের শর্তসাপেক্ষে নিজেদের দেশে ফেরা মঞ্জুর করে আদালত।
কংগ্রেসের প্রশ্ন, যেখানে দিল্লি ও কাশ্মীরের বহু যুবক বিনা কারণে জেলবন্দি, সেখানে কেন জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্তদের ছাড়া হল? দলের মুখপাত্র পবন খেরার প্রশ্ন, ‘‘আমেরিকার নাগরিক বলেই কি ম্যাথুদের জন্য অন্য নিয়ম?’’ জয়রাম রমেশ বলেন, ‘‘স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ম্যাথুর দেশে ফেরার প্রশ্নে আমেরিকার হাত রয়েছে। প্রশ্ন হল, বিনিময়ে ভারত কী পেল? ওই ব্যক্তিরা কী ভাবে ভারতে প্রবেশের ভিসা পেল, সবার আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তার জবাব দেওয়া উচিত।’’