জনগণনায় এই প্রথম জাতগণনা হচ্ছে। কিন্তু জনগণনায় জাত জিজ্ঞাসা করার পদ্ধতিটি ত্রুটিপূর্ণ বলে আজ অভিযোগে সরব হল কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, গোটা দেশে কত সংখ্যক তফসিলি জাতি-জনজাতি এবং ওবিসি সমাজের লোক রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাবে। এর পিছনে গভীর অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।
গোড়ায় জনগণনার সঙ্গে জাতগণনা হবে না বলেই জানিয়েছিল মোদী সরকার। কিন্তু ওবিসি সমাজ তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ নামায় নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে কেন্দ্র জানায়, জনগণনার সঙ্গেই জাতগণনা হবে। কিন্তু কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের অভিযোগ, প্রশ্নাবলিতে প্রথমে জানতে চাওয়া হয়েছে, সেই ব্যক্তি কি তফসিলি জাতিভুক্ত? না কি নয়? না হলে সমস্যা নেই। কিন্তু তিনি যদি তফসিলি জাতিভুক্ত হন, তা হলে কোন জাত তা লিখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনও ড্রপ-ডাউন বা বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে না। ফলে কোনও জাত সংশ্লিষ্ট রাজ্যে ওবিসি কি না, তার কোনও তথ্য থাকছে না। বিরোধীদের মতে, এর ফলে দেশে প্রকৃত ওবিসি-র সংখ্যা কত, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া মুশকিল হবে। সুবিধা হবে বিজেপির। কারণ ওবিসি জনসংখ্যা যদি ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে ওবিসিদের জন্য সংরক্ষণ বাড়াতে হবে মোদী সরকারকে। সেটা হলে বিজেপির মূল ভোটব্যাঙ্ক অর্থাৎ উচ্চবর্ণ এবং সর্বোপরি আরএসএসের ক্ষুব্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশ্নোত্তরে জাতপাত সংক্রান্ত তথ্য অসম্পূর্ণ রেখে সরকার পিঠ বাঁচানোর কৌশল নিয়েছে, দাবি বিরোধীদের।
এ বার জনগণনায় ধর্ম, জন্মতারিখ জানার পাশাপাশি সেই ব্যক্তির পিতা-মাতা কোথায় জন্মেছেন, তা-ও জানতে চাওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জয়রাম। তাঁর দাবি, ‘‘এ ধাঁচের প্রশ্ন অতীতে জানতে চাওয়া হয়নি।’’ বিরোধীদের অভিযোগ, জন্মতারিখ ও পিতা-মাতার জন্মস্থান জানতে চেয়ে ঘুরিয়ে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বানানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।