জেন জ়ি-র ‘ক্ষোভ’-কে কাজে লাগিয়ে উত্তরপ্রদেশের ভোটে ফায়দা তুলতে রাহুল গাঁধী এ বার নরেন্দ্র মোদী এবং যোগী আদিত্যনাথের ঘরের মাঠে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে জনসভা করতে চাইছেন। গোটা দেশে রাহুল ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ জনসভা করে পড়ুয়া, চাকরির পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন। উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যেই প্রয়াগরাজে তাঁর জনসভা হয়েছে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, এ বার প্রধানমন্ত্রীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের শহর গোরক্ষপুরে রাহুলের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে। মিরাট ও কানপুরও তালিকায় রয়েছে।
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আজ রাহুল, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা ও সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল ১০ জনপথে উত্তরপ্রদেশে ভারপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে উত্তরপ্রদেশের দলের সংগঠন গড়ে তোলার কাজ কতখানি এগিয়েছে, তা নিয়ে পর্যালোচনার পাশাপাশি, কী ভাবে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে দর কষাকষি হবে, তার আলোচনা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে কংগ্রেসের কৃষক সংগঠন পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত ‘কিসান যাত্রা’ শুরু করছে।
শুধু মোদী-যোগীর গড় নয়। আরএসএসের ‘ঘরের মাঠ’ নাগপুরেও রাহুলকে সামনে রেখে কংগ্রেস ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ করতে চাইছে। নাগপুরে আরএসএসের সদর দফতর। ‘টিম রাহুল’-এর এক সদস্য বলেন, ‘‘জেন জ়ি, স্কুল পড়ুয়া জেন আলফাদের পাশে থাকার বার্তা দিতে দেশের আটশো শহরে ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ জনসভা হবে। রাহুল গাঁধী ছোট-মাঝারি শহরেও যাবেন। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে রাহুল গাঁধী যেমন ভারত জোড়ো যাত্রা ও ভারত জোড়ো ন্যায়যাত্রা করেছিলেন। ২০২৯-এর আগে ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ ঘিরেও রাহুলের ভারত সফর হয়ে যাবে।’’
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে পঞ্জাব ও উত্তরাখণ্ডেও বিধানসভা নির্বাচন। উত্তরাখণ্ড জুড়ে সোমবার কংগ্রেস মল্লিকার্জুন খড়্গের জনসভার পরে হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানের ‘শুদ্ধিকরণ’ নিয়ে বিক্ষোভ দেখাবে। রাহুলের ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোরে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ জনসভার পরে পঞ্জাবের কংগ্রেস নেতাদের অমৃতসর থেকে রাজ্য জুড়ে বাসযাত্রা হবে। স্বর্ণমন্দিরে প্রার্থনা করে রাহুল সেই বাসযাত্রা শুরু করবেন। তার আগে পঞ্জাবের ভারপ্রাপ্ত ভূপেশ বঘেলকে রাজ্যের কংগ্রেস নেতাদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
(জেন জ়ি: এটি আদতে আমেরিকায় বিপণন কৌশলের অঙ্গ হিসাবে বয়সভিত্তিক বিভাজন, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মানো প্রজন্মকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়)