ডোনাল্ড ট্রাম্প জমানার দ্বিতীয় ইনিংসে ধারাবাহিক ভাবে ওয়াশিংটনের কাছে অপদস্থ হতে হচ্ছে নয়াদিল্লিকে— এমনটাই মনে করে কূটনৈতিক শিবির। তারই সর্বশেষ সংযোজন সে দেশের বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর আসন্ন ভারত সফরকে ঘিরে বিবৃতি। যা নিয়ে মোদী সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি কংগ্রেস।
রুবিয়োর সফরের আগে এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আমেরিকার আধিকারিকেরা ‘আশা করেন’ বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মুম্বই গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। এর পর মাঠে নেমেছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘মোদীজি, আপনার কর্মীকে মিস্টার রুবিয়ো ডেকে পাঠালেন মুম্বইয়ে। আপনার বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকেরা বিভ্রান্ত, এটা কী চলছে! আপনিই হয়তো এর ব্যাখ্যা দিতে চাইবেন। অথবা চাইলে, আমিই দিয়ে দেব’। কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, ‘‘রুবিয়োর মুম্বই সফর নিয়ে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত বলেছেন, তিনি মুম্বইয়েভারত সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এটা তেমন বিস্ময়কর নয়। অস্বাভাবিক হল তাঁর এই কথা বলা যে, ‘আমরা আশা করছি, অন্যদের সঙ্গে জয়শঙ্করও আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন’! কবে থেকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বৈঠকের কথা অন্যকে জানানোর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে? ভারত প্রথম খবরটা পেল আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের থেকে। ঠিক যেমন ২০২৫ সালের ১০ মে এই রুবিয়োই জানিয়েছিলেন, অপারেশন সিঁদুর স্থগিত হয়েছে।”
এই নিয়ে বিদেশ মন্ত্রককে প্রশ্ন করা হলেও জবাব মেলেনি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল বিদেশমন্ত্রীর মুম্বই যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, কেন জয়শঙ্কর মুম্বই যাবেন। সরকারের যুক্তি, গত এক দশক ধরে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের ভারত সফরের সময় দেশের বিভিন্ন শহরে তাঁদের আতিথ্য জানানো রীতি। প্রধানমন্ত্রী স্পেনের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বরোদায়, জার্মানির চ্যান্সেলর মের্ৎজ়েকে স্বাগত জানান আমদাবাদে। মরিশাসের প্রধানমন্ত্রীকে আতিথ্য জানান বারাণসীতে। জায়সওয়ালের কথায়, “১৯ ও ২০ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী শেখ আবদুল্লা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে সরকারি সফরে মুম্বইয়ে স্বাগত জানাবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২০ অক্টোবর মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।”