কুড়ি বছর আগের ঘটনা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তখন কেরলের পূর্ত দফতরের সচিব। মালয়েশিয়ার সংস্থা পাটি-বেল কেরলের পরিবহণ প্রকল্পের বরাত পেয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, রাজ্যের পূর্ত দফতর ঠিক সময়ে বিল না মেটানোয় সংস্থার চিফ প্রজেক্ট ম্যানেজার লি শি বিন আত্মহত্যা করেছিলেন। এই অভিযোগও ছিল, বিন তাঁর ‘সুইসাইড নোট’-এ জ্ঞানেশের নাম লিখেছিলেন।
এসআইআর করে ভোটারদের নাম কেটে বিজেপিকে জিততে সাহায্য করা, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমার এখন বিরোধীদের তোপের মুখে। বিরোধীরা তাঁর ইস্তফা, গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন। এ বার তাঁর উপরে চাপ বাড়াতে কেরলের কংগ্রেস সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর ২০ বছর আগের ওই ঘটনায় ভিজিল্যান্স তদন্তের ফাইল নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করেছে। সে সময় রাজ্যের ভিজিল্যান্স ও দুর্নীতিদমন ব্যুরো জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত করেছিল।
সূত্রের খবর, কেরলের ১৯৯৮ ব্যাচের আইএএস অফিসার জ্ঞানেশ ২০০৬ সালে কেরলের পূর্ত সচিব ছিলেন। ২০০৬ সালে ভি এস অচ্যুতানন্দনের সরকার ক্ষমতায় আসে। তারপরেই মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পাটি-বেল সংস্থার কর্তা লি শি বিনের আত্মহত্যার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, প্রকল্পের বিলের টাকা মেটানোর জন্য ঘুষ চাওয়া হয়েছিল।
এর পরে বারবার চেষ্টা করেও পূর্ব দফতরের থেকে টাকা আদায় করতে না পেরে বিন আত্মহত্যা করেন। বাম সরকার ভিজিল্যান্স তদন্তের নির্দেশ দিলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে অনেক নথি মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমান কংগ্রেস সরকার সেই ফাইলের খোঁজখবর শুরু করেছে। এ নিয়ে কংগ্রেস বনাম বামেদের বিবাদ তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক শিবির অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে, কেরলে কাজ করার সময় কংগ্রেস, বাম দুই সরকারের মুখ্যমন্ত্রীদেরই আস্থাভাজন ছিলেন জ্ঞানেশ।
সে সময় কেরলের বাম সরকারের অর্থমন্ত্রী টমাস আইজ্যাক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভি এস অচ্যুতানন্দনের মুখ্যমন্ত্রিত্বে সরকার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই জ্ঞানেশ কুমার পূর্ত দফতরের সচিব ছিলেন। বিশ্ব ব্যাঙ্কের অর্থসাহায্যে পরিবহণ প্রকল্পের কাজ হয়েছিল। বিন সুইসাইড নোটে তাঁর হেনস্থার বর্ণনা দিয়েছিলেন। তাতে জ্ঞানেশ কুমারের নাম ছিল। বিন লিখেছিলেন, তাঁর থেকে ঘুষ চাওয়া হয়েছিল, বিলের টাকা আটকে রাখা হয়েছিল।
অক্টোবরে এই ঘটনার পরে নভেম্বরে বাম সরকার জ্ঞানেশকে পূর্ত দফতরকে সরিয়ে ভিজিল্যান্স তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিছু দিন পরে জ্ঞানেশ বদলি হয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে চলে যান। কংগ্রেস সরকার যখন ২০১১ সালে ক্ষমতায় ফেরে, তখন জ্ঞানেশ দিল্লিতে কেরলের রেসিডেন্ট কমিশনার হন। ২০১৬ সালে পিনারাই বিজয়নের বাম সরকার ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত তিনি ওই পদেই ছিলেন।