E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

যোগী রাজ্যে এখন ব্রাহ্মণ ভোটের আরাধনায় কংগ্রেস

১০ বছর পরে ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ফের সেই ব্রাহ্মণ ভোটকেই পাখির চোখ করতে চাইছে। কংগ্রেস ব্রাহ্মণ নেতা প্রমোদ তিওয়ারির কন্যা, তিন বারের বিধায়ক আরাধনা মিশ্র ওরফে মোনাকে প্রদেশ কংগ্রেস সভানেত্রী নিয়োগ করেছে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০৮

—প্রতীকী চিত্র।

প্রশান্ত কিশোর ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় রাহুল গাঁধীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, এক জন ব্রাহ্মণ নেতা বা নেত্রীকে কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করুক। তা হলে গোবলয়ের সবচেয়ে বড় রাজ্যে ব্রাহ্মণ ভোট ফের কংগ্রেসের ঝুলিতে ফিরে আসবে। প্রাথমিক ভাবে কংগ্রেস শীলা দীক্ষিতের নাম ঠিক করে ফেলেছিল। শেষে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট হওয়ায় কংগ্রেসকে আর মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে মাথা ঘামাতে হয়নি।

১০ বছর পরে ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ফের সেই ব্রাহ্মণ ভোটকেই পাখির চোখ করতে চাইছে। কংগ্রেস ব্রাহ্মণ নেতা প্রমোদ তিওয়ারির কন্যা, তিন বারের বিধায়ক আরাধনা মিশ্র ওরফে মোনাকে প্রদেশ কংগ্রেস সভানেত্রী নিয়োগ করেছে। আরাধনাকে সামনে রেখে হাইকমান্ডের আশা, যোগী আদিত্যনাথের ১০ বছরের রাজত্বকালে ব্রাহ্মণদের মধ্যে তৈরি অসন্তোষের সুফল তোলা যাবে। কারণ ঠাকুর পরিবার থেকে উঠে আসা যোগী আদিত্যনাথের জমানায় ব্রাহ্মণেরা কোণঠাসা বলে বিজেপির ব্রাহ্মণ নেতারাও নালিশ করেছেন। সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব ‘পিডিএ’ বা ‘পিছড়ে’ (ওবিসি), ‘দলিত’ ও ‘অল্পসংখ্যক’ (মুসলিম) ভোটব্যাঙ্ককে নিজের দিকে টানতে চাইছেন। তাতে কংগ্রেস ব্রাহ্মণ ভোট যোগ করতে পারলে বিজেপি বিপাকে পড়বে। অতীতে মায়াবতীও ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’ নীতি নিয়ে নিজের দলিত ভোটের সঙ্গে ব্রাহ্মণ ভোটের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের প্রায় ১২ শতাংশ ব্রাহ্মণ। পূর্ব, মধ্য ও বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের ৬০-৭০টি আসনের ফলে ব্রাহ্মণরা প্রভাব ফেলতে পারেন। কংগ্রেস ব্রাহ্মণ সমাজের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠকের পরিকল্পনা করছে।

নতুন দায়িত্ব পেয়ে আরাধনা সোমবার দিল্লিতে রাহুল গাঁধী ও প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির এখনও আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়নি। এ দিকে, বাকযুদ্ধ চলছে। এসপি-র সাংসদ শিবপাল সিংহ পটেল বলেছেন, অখিলেশের সমর্থন ছাড়া রাহুল গত লোকসভা নির্বাচনে রায়বরেলীতে ভোটে লড়তে ভয় পাচ্ছিলেন। ৪০৩ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেসের ৫০টির বেশি আসন পাওয়া উচিত নয়। এ দিকে কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক রাজেন্দ্র পাল গৌতম ১৫০ আসন দাবি করেছেন। এই বিবাদ পিছনে ফেলে আরাধানা এসপি-র সঙ্গে আসন বণ্টনও মসৃণ ভাবে করতে চাইছেন। তিনি বলেন, “দিল্লি থেকে দুই দলের শীর্ষনেতারা উত্তরপ্রদেশে জোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ বার আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও তাঁরা নেবেন। আমি রাজ্যের নেতা-কর্মীদের মনোভাব তাঁদের কাছে পৌঁছে দেব। তাঁদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করব।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Congress UP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy