দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রায় ৭৫ মিনিট ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত চার বছরে স্বাধীনতা দিবসে এটিই প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ভাষণ। সেই সময়ে একাধিক বার দৃশ্যত ‘খেই হারান’ মোদী। তা নিয়েই এ বার মোদীকে বিঁধতে শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি। কেউ বলছে ‘টেলিপ্রম্পটারহীন’। আবার কেউ বলছে, ‘আত্মবিশ্বাসের অভাব’। আবার কংগ্রেসের সদর দফতরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান নিয়ে পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপি। অভিযোগ, সেখানে জাতীয় গান বন্দে মাতরম্ পরিবেশনের সময়ে বাধা দিয়েছেন সনিয়া গাঁধী।
লালকেল্লার ভাষণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নতি এবং তরুণ প্রজন্মের অবদানের কথা তুলে ধরছিলেন প্রধানমন্ত্রী। একটি পর্যায়ে জৈবঅর্থনীতিতে দেশের উন্নয়ন বর্ণনা করছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের আগে কী পরিস্থিতি ছিল এবং বর্তমানে কী পরিস্থিতি হয়েছে— সেই পরিসংখ্যান দিচ্ছিলেন। তখন দুই-এক সেকেন্ডের জন্য তাঁর বক্তৃতা থামে। নীচের দিকে তাকান তিনি। তার পরে আবার ভাষণ চালিয়ে যেতে থাকেন। কিছু ক্ষণ পরে বৈদ্যুতিন গাড়ি বিক্রির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। জানান, ২০০৯-১০ সালে মাত্র ২৫ লক্ষ বৈদ্যুতিন গাড়ি বিক্রি হয়েছিল এ দেশে। পরক্ষণেই পরিসংখ্যান সংশোধন করে নেন তিনি। বলেন, “দেড় লক্ষ। দেড় লক্ষ বৈদ্যুতিন গাড়ি বিক্রি হয়েছিল ২০০৯-১০ সালে।”
পরে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ওই অংশগুলি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতে শুরু করে বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সমাজমাধ্যমে ওই ভি়ডিয়ো পোস্ট করে লেখেন, “টেলিপ্রম্পটার ছাড়া মহামানব।” আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীবালও বিঁধেছেন মোদীকে। তিনিও ওই ভিডিয়ো পোস্ট করে লেখেন, “আত্মবিশ্বাসহীন, উদ্বিগ্ন এবং নড়বড়ে প্রধানমন্ত্রী।” যদিও এ দিনের প্রায় ৭৫ মিনিটের ভাষণে কৃত্রিম মেধা, সেমিকন্ডাক্টর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে দেশের আগামীর দিশার আভাস দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশ থেকে মাওবাদ নির্মূল করার লড়াই নিয়েই নিজের অবস্থান জানান তিনি।
এ দিন প্রধানমন্ত্রীর পরনে কোটের পকেটে সবুজ, সাদা এবং কমলা রঙের রুমাল রাখা ছিল। তা নিয়েও খোঁচা দিয়েছে কংগ্রেস। খেরা সমাজমাধ্যমে ওই ছবি পোস্ট করে লেখেন, “ভারতের বদলে আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা দিবস পালন করছেন।”
আরও পড়ুন:
বিরোধীরা মোদীকে খোঁচা দিতে শুরু করতেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে বিজেপি-ও। তাদের অভিযোগ, দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতর ইন্দিরা ভবনে স্বাধীনতা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে জাতীয় গান পরিবেশনে বাধা দিয়েছেন সনিয়া। একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে তাদের দাবি, বন্দে মাতরম্ পরিবেশিত হওয়ার সময়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন সনিয়া। ওই ভিডিয়োয় সনিয়ার পাশেই দেখা যাচ্ছে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে।
সমাজমাধ্যমে বিজেপির অভিযোগ, “বন্দে মাতরম্ গানটি শুরু হওয়ার পর পরই সনিয়া গাঁধী অস্বস্তি বোধ করতে থাকেন। তিনি গান থামানোর জন্য ইশারা করেন। জাতীয় গান পরিবেশিত হওয়ার সময়ে এবং তা শেষ হওয়ার পরে রাহুল গাঁধীকেও চিন্তিত দেখাচ্ছিল।” বিজেপির প্রশ্ন, দেশের সাংস্কৃতিক চেতনা, ঐতিহ্য এবং জাতীয়তাবোধ নিয়ে গাঁধী পরিবারের কেন এমন ‘অস্বস্তি’?
যদিও বিজেপির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, বন্দে মাতরম্ সম্পূর্ণই গাওয়া হয়েছে ইন্দিরা ভবনের কর্মসূচিতে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের দাবি, খড়্গে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। সনিয়া তাঁর জন্য একটি চেয়ার আনতে বলছিলেন।