ইচ্ছুক রাজ্য চাইলে ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই নিজেদের রাজ্যে বিধানসভা ভোট করাতে পারেন বলে আজ ফের সওয়াল করলেন ‘এক দেশ এক ভোট’ নিয়ে গঠিত যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)-এর চেয়ারম্যান পি পি চৌধুরী। তাঁর মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কোনও হস্তক্ষেপ হবে না। বিরোধীদের পাল্টা, দেশের মূল সমস্যাগুলি থেকে নজর ঘোরানোর ফিকির খুঁজতেই এ নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করছে সরকার।
লোকসভার সঙ্গে বিধানসভার ভোটের লক্ষ্যে ‘এক দেশ এক ভোট’ বিল এনেছিল সরকার। যা বর্তমানে সংসদের জেপিসি-র কমিটির কাছে। কমিটির চেয়ারম্যান পি পি চৌধুরীর মতে, ২০২৮ সালের মধ্যে সংসদে সংবিধান সংশোধন করে যদি ওই বিলটি পাশ করানো সম্ভব হয়, তা হলে ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে ইচ্ছুক রাজ্য চাইলে বিধানসভা নির্বাচন সেরে ফেলতে পারে। পিপি চৌধুরীর দাবি, একাধিক সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বা সংবিধানের মূল কাঠামোয় হস্তক্ষেপ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। শাসক শিবিরের একটি অংশ বিজেপি শাসিত যে রাজ্যগুলি রয়েছে, তাদের অধিকাংশের বিধানসভা মেয়াদ বাড়িয়ে বা কমিয়ে ২০২৯ সালের লোকসভার সঙ্গে নির্বাচন করিয়ে নেওয়ার পক্ষপাতী।
কিন্তু কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমের মতে বিলের ভাষ্য অনুযায়ী তা সম্ভব নয়। কারণ বিলে বলা রয়েছে ওই বিল পাশ হওয়ার পরে যে লোকসভা নির্বাচন (২০২৯) হবে, তার পরে যে দিন সংসদ বসবে সেই দিনটিকে ‘অ্যাপোয়েন্টেড ডেট’ হিসেবে গণ্য করা হবে। যার পাঁচ বছর পরে লোকসভা-বিধানসভা নির্বাচন করা সম্ভব। বিরোধীদের মতে, বিল অনুযায়ী, ২০৩৪ সালের আগে ‘এক দেশ এক ভোট’ করা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু দিল্লি, মুম্বই, পটনা-সহ বিজেপি শাসিত রাজ্যে ছাত্র বিক্ষোভ, বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধির মতো সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেই ‘এক দেশ এক ভোট’-এর বিষয়টি সামনে এনে অযথা বিতর্কের কৌশল নিয়েছে বিজেপি।