E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বিদেশি নন, প্রমাণ করতে সর্বস্বান্ত নূর জাহান-জেব্বার

নূর জাহান জানান, গ্রেফতারির রাতের স্মৃতি এখনও মনে গেঁথে রয়েছে। পুলিশ অমানবিক আচরণ করে তাঁদের টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যেরা নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ পাত্তা দেয়নি।

রাজীবাক্ষ রক্ষিত

শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ ০৯:০৪

—প্রতীকী চিত্র।

২০১১ সালে বিদেশি ট্রাইবুনালের একতরফা রায়ে ‘বিদেশি’ ঘোষিত হওয়ার ২ বছর পরে গ্রেফতার হয়েছিলেন তেজপুরের ৬০ বছরের নূর জাহান এবং তাঁর ৭৫ বছরের স্বামী আবদুল জেব্বার। সাত বছর ডিটেনশন সেন্টারে কাটানোর পরে, কোভিডের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান তাঁরা। তারও ৬ বছর পরে অসমের আরও ২৫ জনের সঙ্গেই তাঁদের মামলাও উঠল সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালত বলেছে, ওই ২৭ জনের মামলাই নতুন ভাবে শুনতে হবে। ফের যাচাই করতে হবে সকলের সব প্রমাণপত্র। ফলে বুক বাঁধছেন নূর-আবদুল। তবে শেষ পর্যন্ত যদি নাগরিকত্ব থেকেও যায়, মামলা লড়তে লড়তে সর্বস্বান্ত পরিবারের ভেঙে যাওয়া মেরুদণ্ড সোজাহওয়া কঠিন।

নূর জাহান জানান, গ্রেফতারির রাতের স্মৃতি এখনও মনে গেঁথে রয়েছে। পুলিশ অমানবিক আচরণ করে তাঁদের টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যেরা নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ পাত্তা দেয়নি। নূর জাহানের দাবি, তাঁর বাবার নাম ১৯৫১ সালের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-তে ছিল এবং ১৯৬৬ সালের আগে তিনি একাধিক বার ভোট দিয়েছিলেন। সেই সংক্রান্ত সমস্ত নথি তাঁদের কাছে থাকলেও সেগুলি বিবেচনা করা হয়নি। তাঁদের আইনজীবী মিলন লস্কর জানান, নূর জাহান প্রথম দিকে ট্রাইবুনালে হাজিরা দিলেও পরে আর উপস্থিত হতে পারেননি। এরপরে একতরফা ভাবে তাঁকে বিদেশি ঘোষণা করা হয়। গৌহাটি হাই কোর্টেও আবেদন খারিজ হওয়ার পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে যায়।

নূর জাহানের ছেলে ওমর ফারুক জানান, হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা চালাতে তাঁদের জমি, গরু এবং অন্যান্য সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে। ১২ লক্ষ টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দু'জন তখন নাবালক ছিলেন। বাবা-মায়ের মামলার খরচ জোগাতে তাঁদের পড়াশোনা ছেড়ে কাজে যোগদিতে হয়।

সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ২৭টি মামলায় গৌহাটি হাই কোর্টের রায় বাতিল করে সংশ্লিষ্ট বিদেশি ট্রাইবুনালে নতুন করে শুনানির নির্দেশ দেয়। আদালত জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি ট্রাইবুনালে উপস্থিত না থাকলেই বিদেশি ঘোষণা করা যাবে না। ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নতুন শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে বলপূর্বক কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
NRC Assam

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy