ছ’বছর আগের গলওয়ানে সংঘাতের পরে এই প্রথম প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে চিন নিজেদের সেনা অনেকাংশে সরিয়ে নিয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (২০২৫-২৫) বার্ষিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘ কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনার কারণে তা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি ভারতীয় সেনাবাহিনীর। ওই রিপোর্ট সামনে এসেছে গত কাল। তাৎপর্যপূর্ণ হল, সে সময়ে ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে নয়াদিল্লিতেই ছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
গত অক্টোবরে পূর্ব লাদাখে ২৩তম কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক হয় ভারত-চিনের। তারপর থেকেই ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র। প্রতিরক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত এক বছরে লাদাখে চিন সৈন্যের সংখ্যা উল্লেখজনক ভাবে কমেছে। তবে সামরিক উপস্থিতি কমালেও, এমন নয় যে সামরিক কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে চিনা সেনা। সীমান্তের ওপারে এবং প্রশিক্ষণের এলাকায় দশটি ব্রিগেডবাহিনী মোতায়েন রেখেছে চিন। পাল্টা হিসেবে ভারতীয় সেনাকে ওই এলাকার সব সেক্টরেই সমান ভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। যারা যে কোনও হামলা মোকাবিলার জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দু’দেশের মধ্যে সামরিক আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যার সমাধান এবং উত্তেজনা প্রশমনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সমস্ত সেক্টরেই চিনা সেনার সঙ্গে আলোচনা জারি রয়েছে। এ ধরনের বৈঠকে উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি উত্থাপন করে তার সমাধানের চেষ্টা চলেছে।
ভারত-চিন সীমান্ত প্রসঙ্গ ছাড়াও রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত এক বছরে জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি তৎপরতা অনেকটাই কমেছে। গত এক বছরে উপত্যকা থেকে কেবল একজন জঙ্গি দলে নাম লিখিয়েছে। ফলে জম্মু-কাশ্মীরের যুবকেরাই অস্ত্র হাতে তুলে জঙ্গি হয়ে উঠছে বলে পাকিস্তান যে দাবি করে, তা অসার প্রমাণিত হয়েছে। ২০২৫ সালে নিয়ন্ত্রণরেখায় ৬টি অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়। যাতে ১২ জন পাক জঙ্গি নিহত হয়। তবে গত এক বছরে সংঘর্ষবিরতির সংখ্যা উল্লেখজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে দু’বার সেখানে ২০২৫ সালে ১৬৩টি সংঘর্ষবিরতির ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে অবশ্য ১২৪টি হয়েছে ‘অপারেশ সিঁদুর’ চলাকালীন।
রিপোর্টে ‘অপারেশন সিঁদুর’ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ওই অভিযান ভারতের বহুমুখী সক্ষমতা, গোযেন্দা পারদর্শিতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং তিন বাহিনীর যৌথ অভিযান চালানোর দক্ষতাকে তুলে ধরেছে। অভিযানের পরে বাহিনী তাদের সক্ষমতা ও দুর্বলতাগুলিকে পর্যালোচনা করেছে। ফলে বাহিনীর পুনর্গঠন ও তিন বাহিনীরমধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি ও সদা পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।