চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে দিল্লি এসেছিলেন যুবরাজ সোনী (২০)। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হবেন, এমনটাই ইচ্ছা ছিল। এক সপ্তাহ আগে ঘর নিয়েছিলেন সত্য নিকেতনের ‘হস্টেল ডেজ়’ নামের মেসবাড়িতে। রবিবার দুপুরে আচমকা সেই মেসবাড়ি ভেঙে পড়ায় তাঁর মৃত্যু হয়।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোতীলাল নেহরু কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন যুবরাজ। কিন্তু পড়াশোনা করতে গিয়ে যে প্রাণ হারাতে হবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি। যুবরাজ ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরের বাসিন্দা। মা, বাবা ও বোনকে নিয়ে ছোট্ট সংসার। তাঁর এই অকালমৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যেরা। ঘটনার চার ঘণ্টা পরেও যুবরাজের বাবা কানহাইয়া সোনী জানতেন না, তাঁর ছেলে আর পৃথিবীতে নেই। কানহাইয়ার ভাগ্নে নীতীশ বলেন, ‘‘যুবরাজ মামার একমাত্র ছেলে। তাই আমরা ওঁকে এইটুকু জানিয়েছিলাম, যুবরাজ আহত হয়েছে। তার দেহ খুঁজে পাওয়া গেলেও এক্ষুনি মামাকে এই কথা জানানোর সাহস পাচ্ছি না।’’ ছেলের আহত হওয়ার খবর পেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন কানহাইয়া। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুন:
রায়পুরের পঞ্চশীল নগরে যুবরাজদের বাড়ি। সেখানকার এক বাসিন্দা তথা যুবরাজদের পড়শি নিতাই বলেন, ‘‘ছেলেটাকে ১০ বছর ধরে চিনি। আমার মেয়ের সঙ্গে খেলত।’’
যুবরাজের বোন জানিয়েছেন, তাঁর হাত থেকে রাখি পরার জন্য শেষ বার বাড়ি এসেছিলেন যুবরাজ। ৩১ অগস্ট আবার দিল্লি ফিরে যান। দাদার সঙ্গে আর কোনওদিন দেখা হবে না, এ কথা কি স্বপ্নেও ভাবতে পেরেছিলেন বোন?
আপাতত যুবরাজের দেহ নিয়ে রায়পুর ফিরছেন তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। নীতীশ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, জেলাশাসক তাঁদের একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। প্রশাসনের কাছে পরিবারের তরফ থেকে আর কোনও দাবি নেই।
রবিবার দুপুরে দেড়টা নাগাদ দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মোতী বাগ এলাকায় প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরনো পাঁচতলা মেসবাড়িটি ভেঙে পড়ে। কংক্রিটের স্তূপের নীচে ৪০-৫০ জন আটকে পড়েছিলেন, এমনটাই দাবি করেন স্থানীয়রা। উদ্ধারকার্য চালাতে দিল্লি পুলিশ, দমকল ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) ৭০ সদস্যের দু’টি দল মোতায়েন করা হয়।
মঙ্গলবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৭। এ ছাড়াও ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।