জন্মদিন উপলক্ষে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিল ১৭ বছরের কিশোরী। প্রথমে মন্দিরে গিয়ে পুজো দেয় তারা। তার পর সেখান থেকে যায় পার্কে। সেখানেই তাকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। কিশোরী জানিয়েছে, বন্ধুকে দূরে সরিয়ে দিয়ে তিন অভিযুক্ত তাকে ধর্ষণ করেন। তাঁরা নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং বন্দুক ও ছুরি দেখিয়ে তাদের ভয় দেখিয়েছিলেন।
দিল্লির কালকাজি এলাকার এই ঘটনায় ইতিমধ্যে নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে তিন অভিযুক্ত আসিফ, হেমন্ত এবং মুকেশকে। তাঁদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। পুলিশকে নির্যাতিতা জানিয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর তার জন্মদিন ছিল। সেই উপলক্ষে বাড়িতে জানিয়েই বিকেলে এক বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিল সে। প্রথমে কালকাজি মন্দিরে তারা পুজো দেয়। তার পর এক প্যাকেট চিপ্স এবং একটি জলের বোতল কিনে নিকটবর্তী আস্থা কুঞ্জ পার্কে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ বসার পর ইসকনের মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
আরও পড়ুন:
কিশোরীর বয়ান অনুযায়ী, দোলনার কাছে বসে চিপ্সের প্যাকেট খোলামাত্র পিছন দিক থেকে তিন জন যুবক তাদের সামনে আসেন। তাঁরা নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দেন এবং প্রথমেই ওই কিশোরীর বন্ধুকে চড়থাপ্পড় মারেন। দু’জনের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন। বলা হয়, ওই সময়ে পার্কে প্রবেশ নিষিদ্ধ। ভয় পেয়ে গিয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে অভিযুক্তদের কথা বলানোর চেষ্টা করেছিল কিশোরী। লাভ হয়নি। অভিযোগ, কান্নাকাটি করলে আসিফ নামের এক যুবক পকেট থেকে বন্দুক বার করে দেখান। তার পর আবার তা পকেটে রেখে দেন। এর পর তাকে দূরে আরও অন্ধকার জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছুরি দেখিয়ে তিন অভিযুক্ত একে একে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। তার পর তার পোশাক ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখান থেকে দু’জনকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। কিশোরী বয়ানে বলেছে, ‘‘আমি কাঁদছিলাম। আমার খুব যন্ত্রণা হচ্ছিল। ওঁরা বললেন, এখনই পার্ক থেকে বেরিয়ে যেতে, না হলে আমাদের মেরে ফেলবেন। কাউকে এই ঘটনার কথা যাতে না বলি, সেটাও বলে দিয়েছিলেন।’’
পার্ক থেকে বেরিয়েই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্যাতিতা কিশোরী এবং তার বন্ধু। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত হেমন্ত পেশায় আইনজীবী, মুকেশ অঙ্কের ছাত্র। বিএসসি চূড়ান্ত বর্ষের পড়ুয়া সে। আসিফকে ধরতে গিয়ে পুলিশকে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিল। পুলিশ দেখে তিনি গুলিও চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশের পাল্টা গুলি তাঁর পায়ে লাগে। আপাতত তিন জনই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।