ভারত, আমেরিকা, রাশিয়া— এই ত্রিভুজের জটিলতায় ‘রাহুগ্রস্ত’ নয়াদিল্লির কূটনীতি। সুরাহার কোনও সম্ভাবনাও অদূর ভবিষ্যতে নজরে আসছে না বিদেশ মন্ত্রকের।
আমেরিকার দ্বিদলীয় সমর্থনে যে বিলটি এই মুহূর্তে সে দেশের কংগ্রেসে অনুমোদনের অপেক্ষায়, তা ফের নয়াদিল্লির সঙ্গে শুল্কযুদ্ধের ঘন্টা বাজাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ভারত-আমেরিকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অন্তর্বর্তিকালীন কাঠামো সই হওয়ার সম্ভাবনাও বিশ বাঁও জলে চলে যাবে বলে মনে করছেন কূটনীতিকেরা। যে নতুন নিষেধাজ্ঞা বিলের কথা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন, তাতে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারত, চিন-সহ পাঁচটি দেশের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যারা রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস কিনছে, তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসও নতুন বিলটি সমর্থন করেছে। অগস্ট মাসের আগেই তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা।
আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত এর আগে রায় দেয়, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত আইন প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশের উপরে ট্রাম্প যে আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন, তা বেআইনি। কিন্তু নতুন করে এই শুল্ক চাপানোর ভাবনা নয়াদিল্লির রক্তচাপ বাড়াচ্ছে। কারণ, হরমুজ় প্রণালীতে অশান্তির পরে রাশিয়ার থেকে সস্তায় আমদানি করা বিপুল অশোধিত তেল নয়াদিল্লির বড় ভরসার জায়গা। আর ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের অন্যতম ভারত।
এ দিকে, ইউক্রেনের ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার তৈল শোধনাগারগুলির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত। যার জেরে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশে পেট্রলের তীব্র সঙ্কট। ভারতের শোধনাগারগুলির কাছে অতিরিক্ত পেট্রলের অনুরোধ জানিয়েছে তারা। এ বার ভারতের কাছেই সাহায্য চেয়েছে রাশিয়া। বিনিময়ে তারা ভারতে অপরিশোধিত তেল রফতানি আরও বাড়াবে বলে সূত্রের খবর। তবে সূত্রের দাবি, সরাসরি নয়, বরং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির মাধ্যমে ভারতীয় পেট্রল রাশিয়ায় পাঠানো হতে পারে। কিন্তু রাশিয়া থেকে তেল আনার মাসুল যদি গুনতে হয় ভারতকে, তা হলে নয়াদিল্লি-মস্কো জ্বালানি লেনদেনের ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে।