কারা আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবক এবং কারা দুষ্কৃতী— সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তা ঝাড়াইবাছাই করেছে দিল্লি পুলিশ। শতাধিক ভিডিয়ো ক্লিপ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন তদন্তকারীরা। কোথাও দেখা যাচ্ছে পুলিশের উপরে হামলা হচ্ছে, কোথাও আবার ধরা পড়েছে পাথর ছোড়ার ঘটনা, তো কোথাও সম্পত্তি ভাঙচুর হতে দেখা যাচ্ছে। যে দুষ্কৃতীরা এই তাণ্ডব চালিয়েছে, তাদের আলাদা ভাবে চিহ্নিত করছে পুলিশ।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে এমন অনেককে চিহ্নিত করা গিয়েছে, যাঁদের নাম আগে থেকেই পুলিশের খাতায় রয়েছে। শতাধিক ফুটেজকে ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম’ (মুখের বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রযুক্তি)-এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে এমন ২,৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্র উদ্ধৃত করে এন়ডিটিভি জানাচ্ছে, চিহ্নিত হওয়া এই ব্যক্তিদের নাম পূর্বেও কোনও না কোনও অপরাধমূলক মামলায় জড়িয়েছে। এমনকি কারও কারও বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগও ছিল।
দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার ইতিমধ্যে সরকারের কাছে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। বাহিনীর উপরে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর-সহ বিভিন্ন অশান্তির ঘটনায় জড়িতদের কী ভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তার উল্লেখ রয়েছে ওই রিপোর্টে। সূত্রের খবর, ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে চিহ্নিত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অপরাধের (খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি বা শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা) অভিযোগ উঠেছিল।
দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সচিন শর্মা আগেই আভাস দিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের উপর থেকে এফআইআর প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। জানিয়েছেন, তাঁরা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে সূত্রের খবর, আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবকদের উপর থেকে মামলা প্রত্যাহার হলেও তাণ্ডবের ঘটনায় তদন্ত চলবে। এ অবস্থায় অপরাধমূলক অতীত থাকা এই চিহ্নিত ব্যক্তিরা দিল্লি পুলিশের নজরে রয়েছেন। ওই চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের নাম বার বার উঠে এসেছে পুলিশের খাতায়, এমন উদাহরণও রয়েছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, চিহ্নিত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অতীতে ১০১ জনের বিরুদ্ধে খুন, ৬২ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, ২৮৪ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ৬১ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ৬ জনের বিরুদ্ধে শিশুর উপরে অত্যাচার, ২৫ জনের বিরুদ্ধে যৌননিগ্রহ এবং ১৯ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ উঠেছিল। অস্ত্র আইনেও অভিযোগ উঠেছিল ২২৯ জনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও অন্য অভিযোগ রয়েছে বাকিদের বিরুদ্ধে।
গত ২০ জুলাই ছাত্র-যুবকদের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির দিন উত্তপ্ত হয়েছিল দিল্লির রাজপথ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মিছিলে যোগদাতাদের কেউ কেউ পুলিশের উপরে হামলা করছেন। কাউকে দেখা গিয়েছে পাথর ছুড়তে, ব্যারিকেড ভাঙতে। গাড়ি ভাঙচুর, গাড়ির মধ্যে থাকা পুলিশকর্মীদের মারধর, সরকারি সম্পত্তি এবং দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। এই অরাজক পরিস্থিতি কারা তৈরি করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা।