ছেঁড়া ১০ টাকার নোট ধরিয়ে দিচ্ছিলেন ক্রেতা। তিনি তা নিতে চাননি। অভিযোগ, সেই ‘অপরাধে’ তাঁকে মারধর করা হয়। বাড়ি ফিরে আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করেনি ডেলিভারি এজেন্ট যুবকের। বিষ খাওয়ার আগে শেষ বারের মতো একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করে অভিযুক্ত ক্রেতার কীর্তি ফাঁস করেন তিনি। পরে গত মঙ্গলবার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
দিল্লির বাসিন্দা ২৩ বছরের সমীর হুসেন একটি জনপ্রিয় অনলাইন বিপণি সংস্থায় ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন। ২১ অক্টোবর ২৩ পেরিয়ে ২৪ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগের দিনই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর বিষ খেয়েছিলেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। বিষ খাওয়ার আগে সমীর যে ভিডিয়ো রেকর্ড করেছেন, তাতে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘গরিব হওয়া কি অপরাধ?’ তাঁর সঙ্গে কী কী ঘটেছিল, তা-ও ভিডিয়োতে ব্যাখ্যা করেছেন সমীর। শাস্তি চেয়েছেন সেই ক্রেতা এবং তাঁর নাতির।
আরও পড়ুন:
সমীর জানিয়েছেন, গত ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বিনোদ নগর এলাকায় রামপাল সিংহের বাড়িতে তিনি একটি অর্ডার পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ১৫০ টাকা জোগাড় করতে ক্রেতা প্রায় ১৫ মিনিট লাগিয়ে দেন। তার জন্য সমীর কোনও অভিযোগ করেননি। কিন্তু তাঁকে একটি ছেঁড়া ১০ টাকার নোট দেওয়া হয়েছিল। তা তিনি নিতে চাননি। নোটটি বদলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
অভিযোগ, রামপাল তাঁর কথা শুনেই বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘‘আমার কাছে এটাই আছে। নিতে হলে নাও, না হলে চলে যাও।’’ সমীরকে এর পর তিনি গালে তিন বার থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ। গালিগালাজও করেন। তাঁর আর্থিক অবস্থা নিয়ে খোঁটা দেন। শেষ ভিডিয়োতে সমীর জানিয়েছেন, ওই ক্রেতা যথেষ্ট প্রভাবশালী এবং ধনী। তাই তাঁর অভিযোগ পুলিশ কোনও দিনই গ্রহণ করবে না। দেশে ডেলিভারি এজেন্টদের নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা বা সুযোগসুবিধা নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি। ভিডিয়োয় সমীরকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘আমি আত্মহত্যা করব। আমার আত্মমর্যাদাকে সকলের সামনে নষ্ট করা হয়েছে। আমি পরিশ্রম করে রোজগার করছিলাম। বাবার থেকে কোনও দিন এক পয়সাও চাইনি। আমার মৃত্যুর জন্য ওঁরাই (ক্রেতা এবং তাঁর নাতি) দায়ী।’’
সমীরের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ নম্বর ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু করেছে। তদন্ত চলছে।