Advertisement
E-Paper

‘আমি পথে নেমে লড়াই করি, এসি ঘরে বসে থাকা কর্মী নই’! কংগ্রেস সাংসদের মন্তব্য শুনে বললেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র

গত শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তার পরে সোমবারই প্রথম সংসদে গেলেন বিজেপি সাংসদ। সেখানে তিনি গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে ঘিরে ধরেন বিজেপি তথা এনডিএ-র সাংসদেরা। তার ফাঁকে মন্তব্য করেন কংগ্রেস সাংসদ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৭:৪৮
ধর্মেন্দ্র প্রধান।

ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছবি: পিটিআই।

দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে প্রথম বার সংসদে গিয়ে পেয়েছেন ‘বীরের অভ্যর্থনা’। তাঁকে ঘিরে উঠেছে ‘জ়িন্দাবাদ’ স্লোগান। সেই আবহে ধর্মেন্দ্র প্রধান বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, কিছুই হয়নি। বিরোধী কংগ্রেস সাংসদের মন্তব্য শুনে পাল্টা শুনিয়ে দিলেন, তিনি পথে নেমে লড়াই করেন। এসি ঘরে বসে থাকা সমাজকর্মী নন।

নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাঁদের দাবি ছিল ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা। গত শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তার পরে সোমবারই প্রথম সংসদে গেলেন বিজেপি সাংসদ। সেখানে তিনি গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে ঘিরে ধরেন বিজেপি তথা এনডিএ-র সাংসদেরা। স্লোগান দিতে থাকেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান জ়িন্দাবাদ’। এক সহ-সাংসদ তাঁর মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দেন। এক সাংসদ তাঁর গায়ে শাল জড়িয়ে দেন। এক সাংসদ আবার বলেন, এই প্রথম বার কোনও মন্ত্রী অভিযোগ ছাড়াই ইস্তফা দিয়েছেন।

এই আবহে কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ ধর্মেন্দ্রের উদ্দেশে বলেন, ‘‘এ রকম হয়েই থাকে!’’ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পাল্টা বলেন, ‘‘কিছুই হয়নি।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আমি পথে নেমে লড়াই করি। এসি ঘরে বসে থাকা সমাজকর্মী নই।’’ এ ভাবে তিনি যে কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদকেই নিশানা করেছেন, তা নিয়ে দ্বিমত নেই। মনে করা হচ্ছে, সেই সঙ্গে বিরোধীদের মুখও বন্ধ করতে চেয়েছেন ধর্মেন্দ্র। বোঝাতে চেয়েছেন, দলে তাঁর গুরুত্ব আগের মতোই রয়েছে।

বিজেপির একটি সূত্র বলছে, এ বার সাংগঠনিক কাজে তাঁকে নিয়োগ করতে চান শীর্ষনেতৃত্ব। পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে। তাকে পাখির চোখ করেই ধর্মেন্দ্রকে ব্যবহার করার ভাবনা রয়েছে দলীয় নেতৃত্বের। যে ভাবে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। ধর্মেন্দ্রের অনুগামীদের একাংশ বলছে, জাতীয় স্বার্থে ‘আত্মত্যাগ’ করেছেন তাঁদের নেতা। তাঁর ইস্তফার পরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি শিক্ষামন্ত্রী থাকার সময়ে কী কী সংস্কার করেছেন, তা সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।

তবে কেউ কেউ মনে করছেন, ধর্মেন্দ্রের মন্ত্রিত্ব থেকে এই ইস্তফার প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা বিজেপির অন্দরে। ওই রাজ্য থেকে তিনি এবং জুয়েল ওরাম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন। এ বার ধর্মেন্দ্র ইস্তফা দিলেন। এমনিতে ওড়িশা বিজেপি-তে ধর্মেন্দ্র প্রভাবশালী নেতা বলে পরিচিত। ২০২৪ সালে ওড়িশায় বিজেপির ক্ষমতাদখলের নেপথ্যে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। সে রাজ্যের মন্ত্রীদের ৪০ শতাংশই ধর্মেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এ হেন ধর্মেন্দ্র ইস্তফা দেওয়ায় ওড়িশার বিজেপি কর্মীদের মনোবল কিছুটা ধাক্কা খেতে পারে বলে কারও কারও মত।

ধর্মেন্দ্র যদিও ইস্তফা দিয়ে জানিয়েছিলেন, যুবসমাজের কথা ভেবেই এই পদক্ষেপ। তাঁর কথায়, ‘‘কোনও মেধাবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেব না, কারও সঙ্গে অন্যায় হতে দেব না— এটাই আমার সঙ্কল্প ছিল। গত ১০ দিনের ঘটনাক্রমে আমি ব্যথিত। যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলি যাতে তার সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যাতে অটুট থাকে, কোনও পড়ুয়া যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়ে, আমাদের সন্তানেরা যাতে কেরিয়ারে মনোনিবেশ করতে পারে, সে কথা বিবেচনা করে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।’’

Dharmendra Pradhan Cockroach Janata Party

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy