আবার কর্নাটকে কংগ্রেসের অন্দরে কোন্দল। মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নারাজ কংগ্রেসের বিধায়কেরা। নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা না-পেয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন দলের দুই বিধায়ক। এক জন ইতিমধ্যেই বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আর এক জন ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বেসুরো দুই বিধায়ককে নিয়ে অস্বস্তিতে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী।
কংগ্রেসের তিন বারের বিধায়ক যশবন্তরায়গৌড় পাটিল। শিবকুমারের মন্ত্রিসভায় জায়গা না-পেয়ে ‘ব্যথিত’ তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘চার দশক ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কেন মন্ত্রিত্ব দেওয়া হল না, জানি না।’’ বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেও কংগ্রেস ছাড়ার ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান যশবন্ত। অন্য দিকে, বেলুর গোপালকৃষ্ণ জানান, তিনিও বিধায়ক পদ ছাড়বেন। একই সঙ্গে ছাড়বেন রাজ্যের বন শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের পদও। তাঁর অনুযোগ, ‘‘শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের সন্তান বা আত্মীয় হলেই (মন্ত্রী হওয়ার) সুযোগ পাওয়া যায়।’’
গোপালকৃষ্ণ বারবার দল বদলে এখন কংগ্রেসে। ২০০৪ সালে সাগর আসনে বিজেপির টিকিটে জিতে প্রথম বিধায়ক হন তিনি। ২০০৮ সালে আবার জেতেন বিজেপির হয়েই। তবে ২০১৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না-পেয়ে বিজেপি ছেড়ে জেডি (এস)-তে যোগ দেন। জেতেনও। ২০১৮ সালে জেডি(এস) ছেড়ে কংগ্রেসের হাত ধরেন গোপালকৃষ্ণ।
যশবন্ত, গোপালকৃষ্ণ ছাড়াও কংগ্রেসের আরেক বিধায়কও ‘অসন্তোষ প্রকাশ’ করেছেন। কর্নাটকের প্রাক্তন মন্ত্রী দীনেশ গুন্ডুরাও সমাজমাধ্যম পোস্টে লেখেন, ‘‘আমি আমার পুরো রাজনৈতিক জীবনে কর্নাটকের মানুষের সেবা করতে পেরে কৃতজ্ঞ। জনগণ আমার উপর আস্থা রেখেছেন, তাই ছ’বার বিধায়ক হতে পেরেছি। কংগ্রেসের প্রতি আমার অঙ্গীকার এখনও অটল। তবে এটা হতাশাজনক যে এত বছর ধরে রাজ্য এবং দলের সেবা করার পরেও এই মন্ত্রিসভায় আমাকে বিবেচনা করা হয়নি। কোনও কারণ ছাড়াই আমাকে বাদ দেওয়ায় আমি অত্যন্ত হতাশ।’’
আরও পড়ুন:
একের পর এক বিধায়কের ‘ক্ষোভ’ নিয়ে মুখ খুলেছেন শিবকুমার। বিধায়কদের এ ধরনের আচরণে স্পষ্টতই তিনি বিরক্ত। তাঁর কথায়, ‘‘অনেক বিধায়ক আছেন। সবাইকে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। আগে আমিও সিদ্দারামাইয়ার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাইনি। পরে আমি কি মন্ত্রী হইনি? একই ভাবে ভবিষ্যতে সবাইকে সুযোগ দেব।’’ সিদ্দারামাইয়ার ইস্তফার পর ১৩ জন মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন শিবকুমার। দু’মাস পর তাঁর মন্ত্রিসভার ২০টি শূ্ন্যপদ পূরণ করা হল। নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া ২০ জনের মধ্যে ন’জনই নতুন।