কংগ্রেসের পাশাপাশি অ-কংগ্রেসি দল এবং ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের বাইরের বিরোধী দলগুলি নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে আগামী বুধবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসছে। মূল বিষয়, বিজেপির বিরুদ্ধে কৌশল। দু’দিন আগেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির মধ্যে কথা হয়েছে। ডিএমকে, আপের মতো যে সমস্ত দলের কংগ্রেসের ব্যাপারে ‘অ্যালার্জি’ আছে, তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছেন মমতা-তৃণমূল এবং সিপিএম নেতৃত্ব।
বুধবারের বৈঠকে ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন আসছেন না। তবে সূত্রের খবর, মমতা-তৃণমূল ডিএমকে-র সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। চেষ্টা চলছে, যাতে তাদের সংসদীয় নেত্রী কানিমোঝি এবং রাজ্যসভার নেতা তিরুচি শিবা যোগ দেন। আপ নেতা অরবিন্দ কেজরীওয়াল জানিয়ে দিয়েছেন, বুধ-বৈঠকে যোগ দেওয়া অসম্ভব। সামনেই পঞ্জাবের নির্বাচন। সেখানে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়ছে আপ। তবে আজ নয়াদিল্লিতে কেজরীওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বেবি। সেখানে পলিটবুরো সদস্য পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে ইডি-র পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা সম্পর্কে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও কথা হয়। সিপিএমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গণতন্ত্রের ‘অভূতপূর্ব পরিস্থিতি’-র কথা তুলে ধরে বিরোধী-সমন্বয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপেজোর দিয়েছেন বেবি। কেরলে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের আয়োজিত সভা ও কর্মসূচিতে যোগ দিতে কেজরীওয়ালকে আমন্ত্রণ জানান তিনি। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার মমতা-তৃণমূল নেতৃত্ব কেজরীওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বুধবারের বৈঠকে থাকবেন। বিআরএস-এর সঙ্গে কংগ্রেস-সিপিএম যোগাযোগ রাখলেও, বুধবার তারা থাকছে না। মমতা-তৃণমূল নেতৃত্ব জানান, তাঁদের সঙ্গে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকের কথা চলছে। জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ-সহ সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলি বাতিল করে নতুন করে ভোট চাইব। এই দাবি মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে।” সূত্রের খবর, বুধ-বৈঠকে যোগ না দিলেও সংসদের দু’টি কক্ষে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ফের আনা ইমপিচমেন্টের নোটিসে সই করবে আপ এবং ডিএমকে। মমতার দলের দাবি, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিলে সই করারও সম্ভাবনা নেই ডিএমকে-র।