বাদল অধিবেশনের শেষার্ধ থেকে কথাবার্তা চলছিল। মাঝে গতি মন্থর হয়েছেমুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ নিয়ে আন্দোলনের ঝড়ে। বিজেপি আশাবাদী, নভেম্বরের মধ্যেই ডিএমকে-র সঙ্গে ‘কথা’চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটিকে সমর্থনের বিনিময়ে কানিমোঝি এবং এ রাজাকে পূর্ণ মন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহর তরফে। এনডিএ মন্ত্রিসভায় ৯টি পদ খালি হচ্ছে এবং নভেম্বরেই মন্ত্রিসভার রদবদলের গুঞ্জন। সে ক্ষেত্রে ডিএমকে-কে এনডিএ-র শরিক হিসেবে দেখা যেতে পারে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, এনসিপিআইয়ের ভবিষ্যৎ এখনও আদালত এবং স্পিকারের অফিসে ঝুলে থাকলেও, তারাও বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তিনটি মন্ত্রী পদ (একটি পূর্ণ মন্ত্রী পদ, দুটি প্রতিমন্ত্রী) চেয়ে রেখেছে।
সূত্রে এটাও জানা যাচ্ছে, বিজেপির তরফে মমতাপন্থী তৃণমূলের আরও জনাচারেক লোকসভা সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, ওই বিলে সমর্থন চেয়ে। বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে তৎপর বলেই খবর। এই চার জন সম্মত হলে এঁরাও এনসিপিআইয়ে যোগ দিতে পারেন।
এখনও বাদল অধিবেশনের সমাপ্তির বিজ্ঞপ্তি জারি না করে, অধিবেশনকে ‘জীবন্ত’ রেখে দেওয়া হয়েছে এই কারণেই। প্রসঙ্গত, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষ থেকেই দীপাবলি, ছট-সহ বিভিন্ন উৎসব শুরু হয়ে যাবে। প্রথাগত ভাবে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের গোড়াতেই শীতাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। যার ১৪দিন আগে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ করতে হবে বাদল অধিবেশন। সূত্রের খবর, ডিএমকে-র সঙ্গে কথা পাকা হয়ে যাওয়ার পরই বিশেষ অধিবেশন বা বাদল অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব ডাকতে সরকার, প্রয়োজনে শীতকালীন অধিবেশন ছোট করে দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, বিজেপি এটাই ডিএমকে-কে আশ্বাস গিয়েছে যে তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রে ডিএমকের তরফে যে শর্ত দেওয়া হবে তা মানবে সরকার। বিলে সেই অংশ রাখা থাকবে। ডিএমকে-কে এ কথাও জানানো হয়, প্রতিটি রাজ্যের লোকসভার আসন ৫০ শতাংশ করেই যে বাড়বে, তা লিখিত ভাবে পরিবর্তিত আসন পুনর্বিন্যাস বিলে রাখা হবে। তা জানিয়ে ডিএমকে-কে বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে, এতেই তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণ ভারতের লাভ। জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস হলে তামিলনাড়ু বা দক্ষিণ ভারতের অন্য রাজ্যগুলির আসন ৫০ শতাংশ বাড়বে না। কারণ, দক্ষিণের রাজ্যগুলির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হিন্দি বলয়ের তুলনায় কম। ফলে লোকসভায় তামিলনাড়ু বা দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির তুলনামূলক প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে। তার বদলে ভারতের সব রাজ্যেরই লোকসভা আসন ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দিলে লোকসভায় মোট আসনের তুলনায় কোনও রাজ্যের লোকসভা আসনের অনুপাত অপরিবর্তিতই থাকবে।
দীপাবলির আগেই এই বিশেষ অধিবেশন ডাকার চিন্তাভাবনা ছিল। কানিমোঝি এবং এ রাজাকে মন্ত্রিত্বের প্রস্তাবও দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো নিয়ে আন্দোলনের ঢেউ গোটা দেশের নানা প্রান্তে আছড়ে পড়ার পরে বিষয়টি নিয়ে সরব হতে হয়েছে ডিএমকে-কে। ডিএমকে সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে ডিএমকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সিজেপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির আন্দোলনের কথা সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করে এসআইআরের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলির প্রতিবাদকে পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা মন্থর হয়েছে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত আলোচনা। তবে ডিএমকে-র বক্তব্য, ‘পিছন থেকে ছুরি মারা’ কংগ্রেসকে তারা শিক্ষা দিতে চায়। ডিএমকে সূত্রের মতে, গোড়া থেকে তারা সমস্ত পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের পাশে থেকেছে, কিন্তু সেই আস্থার মর্যাদা দিতে জানে না এই দল। বিজেপি-র সঙ্গে জোট গড়ে এনডিএ সদস্য হলে, দ্রাবিড় রাজনীতিতে কোনও সমস্যার কারণ নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। এডিএমকে বিজেপির বরাবরের শরিক, কেন্দ্রকে ধরে রাজ্যের জন্য কাজ করে নিয়েছেন জয়ললিতা সরকারে থাকার সময়। ১৯৯৯ সালে বাজপেয়ী সরকারকেও সমর্থন করে ডিএমকে, সে সময় মুরাসলি মারান, টি আর বালু, এ রাজা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, সেই ইতিহাসের কি পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে?