লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের কেন্দ্রীয় উদ্যোগের বিরুদ্ধে তামিলনাড়ু থেকে নির্বাচিত সমস্ত দলের সাংসদদের আলোচনায় ডেকেছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিভিকের প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান সি জোসেফ বিজয়। কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে জানিয়ে দিল, তারা বিজয়ের ডাকা সেই সর্বদল বৈঠকে শামিল হবে না।
স্ট্যালিনের তুতো বোন তথা ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি শনিবার বলেন, ‘‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে। আমরাও জানিয়েছি। তা হলে বিজয়ের বৈঠক ডাকার প্রয়োজন কী?’’ এর পরেই বিজয়কে আক্রমণ করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘উনি আসলে কাবেরী জলবণ্টন বিতর্ক থেকে নজর ঘোরাতে এমন প্রহসন করছেন।’’ প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে কাবেরী নদীর জলবণ্টন নিয়ে নতুন করে কর্নাটকের সঙ্গে তামিলনাড়ুর টানাপড়েন শুরু হয়েছে। কর্নাটক সরকার তাদের প্রাপ্য জল থেকে বঞ্চিত করছে বলে অভিযোগ তুলে কয়েকটি তামিল কৃষক সংগঠন আন্দোলন শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনের পুত্র তথা তামিলনাড়ু বিধানসভার বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি শুক্রবার জানিয়েছিলেন, সীমানা পুনর্বিন্যাস করে লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের পেশ করা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল তাঁরা সমর্থন করবেন না। তিনি বলেন, ‘‘আমরা গোড়া থেকেই সীমানা পুনর্বিন্যাস বিলের বিরোধিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও এ ভাবেই করে যাব।’’ যদিও প্রকাশিত খবরে দাবি, বিলের খসড়া তিনটি সংশোধন করা হলে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্ট্যালিনের দল।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে উদয়নিধি শুক্রবার জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতি রাজ্যে ৫০ শতাংশ আসন বাড়ানোর মৌখিক প্রতিশ্রুতি খসড়া বিলের অন্তর্ভুক্ত হলে তাঁরা সমর্থনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। সূত্রের খবর, সংশোধিত বিল সমর্থনের আগে কোন রাজ্যে ক’টি আসন বাড়ানোর প্রস্তাব থাকবে, তা প্রকাশ্যে আনারও শর্ত দিয়েছে স্ট্যালিনের দল। সেই সঙ্গে তাদের তৃতীয় শর্ত, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের পরে আগামী ২৫ বছরের জন্য তা ‘ফ্রিজ়’ করা (অপরিবর্তিত রাখার ব্যবস্থা করা)। কামিমোঝি শনিবার বলেন, ‘‘আমরা এখনও বিলের কোনও সংশোধনী খসড়া হাতে পাইনি। চলতি বাদল অধিবেশনে বিল পেশ করা হবে কি না, সে বিষয়ে কেন্দ্র কিছু জানায়ওনি! রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়েছে।’’ লোকসভা ও রাজ্যসভায় যে বিজয়ের দলের যে কোনও সাংসদ নেই, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।