অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামীর নগদ এবং সামগ্রী চুরির ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না-করার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এই চুরির ঘটনা আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ অপরাধ সংক্রান্ত মামলা। সেখানে রাজনীতির কোনও জায়গা নেই। বেঞ্চের মতে, তদন্ত সঠিক পথে এগোচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাই আদালতের একমাত্র ভূমিকা।
রামমন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনার তদন্ত সিবিআইয়ের মতো কোনও সংস্থা দিয়ে করানো হোক। পুলিশি তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়। সোমবার সেই আবেদনগুলির শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলে, ‘‘আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ অপরাধের মামলা। আমরা এখানে শুধু একটি সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এসেছি। আদালত রাজনীতির কোনও জায়গা নয়। বিষয়টিকে রাজনীতির রূপ দেবেন না।’’
অনুদান চুরির ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা যায় কি না, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে তা দেখতে বলে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আদালতের এই পরামর্শের জবাবে সলিসিটর জেনারেল জানান, ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ চুরির ঘটনার তদন্ত করছে। সিটও গঠন করা হয়েছে।
শীর্ষ আদালত জানায়, এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭ জুলাই। সে দিন উত্তরপ্রদেশ সরকারকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কিত রিপোর্ট আদালতে জমা করতে হবে। সোমবারের শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কিত একটি অন্তর্বর্তিকালীন রিপোর্ট আদালতে দেওয়া হয়। সেখানে জানানো হয়, এই ঘটনায় আট জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চুরি যাওয়া প্রণামীর মধ্যে ৮০ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অযোধ্যায় রামমন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে গ্রেফতার আট অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রণামী চুরিতে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাচক্রে, তাঁরা সকলেই রামমন্দির ট্রাস্টের পদাধিকারী এবং সদস্যদের একাংশের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত। ঘটনা নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দেন চম্পত রাই। সেই সঙ্গে তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য (ট্রাস্টি) পদ থেকে ইস্তফা দেন অনিল মিশ্র।