পহেলগাম হামলার পরে পাকিস্তানকে প্রত্যাঘাতের প্রশ্নে বিরোধীরা একজোট হয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আজ সেই বিরোধীদেরই ব্যঙ্গাত্মক ভাবে করে রাজনৈতিক নিশানা করে বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নাম ব্যঙ্গাত্মক ভাবে উঠে এল তাঁর বক্তৃতায়।
কেরলের তিরুবনন্তপুরমের কাছে কেন্দ্র, রাজ্য ও আদানি গোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে তৈরি ভিঝিনজাম সমুদ্র বন্দরের উদ্বোধন মঞ্চে আজ কেরলের বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন ও তিরুবনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর হাজির ছিলেন। মঞ্চে ছিলেন শিল্পপতি গৌতম আদানিও, যাঁর হাতে মোদী সরকার দেশের সমস্ত সম্পদ তুলে দিচ্ছে বলে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ। এই মঞ্চেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি কেরলের মুখ্যমন্ত্রীকে বলছি, আপনি তো ইন্ডিয়া জোটের খুবই শক্তিশালী এক স্তম্ভ। আপনি এখানে রয়েছেন, শশী তারুর বসে আছেন। আজকের এই অনুষ্ঠান অনেকেরই ঘুম ছুটিয়ে দেবে!” সবাই হেসে ওঠায় হাসতে থাকেন মোদীও। তার পর হাসতে হাসতেই বলেন, “বার্তা যেখানে যাওয়ার গিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর এই কটাক্ষের পরে কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল পাল্টা আক্রমণে গিয়ে বলেছেন, ‘‘বিরোধীরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরকারের পাশে থাকছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের অপমান করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এটাই মানসিকতা।’’ কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, ‘‘দেশের দুর্ভাগ্য যে এই স্পর্শকাতর সময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী এই নিচু স্তরের রাজনীতি করছেন। দেশের শত্রুরা হয়তো হাসছে।’’
আগামী বছরের গোড়ায় কেরলের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ভিঝিনজামের বন্দর উদ্বোধনের মঞ্চে সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপির উপস্থিতির ফলে রাজনৈতিক চোরাস্রোতের অভাব ছিল না। কংগ্রেস তথা বিরোধীরা যখন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আদানির মতো শিল্পগোষ্ঠীকে ফায়দা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলে, তখন প্রধানমন্ত্রী কেরলের কমিউনিস্ট সরকারের আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মেলানোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, দেশের উন্নয়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ জরুরি। পিনারাই মনে করিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্র এই বন্দর প্রকল্পের কৃতিত্ব নিতে চাইলেও রাজ্য সরকার ৬০ শতাংশ অর্থ দিচ্ছে। কেন্দ্রের অবদান খুবই সামান্য। শশী তারুর মনে করিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ শুরু হয় কেরলের কংগ্রেস সরকারের আমলে।
কোনও সরকারি পদে না থাকলেও মঞ্চে বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর হাজির ছিলেন। তা নিয়ে কেরলের বাম সরকারের পর্যটন মন্ত্রী পি এ মহম্মদ রিয়াস অভিযোগ তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কথায় বিজেপি নেতার এই রকম উপস্থিতি অগণতান্ত্রিক।