Advertisement
E-Paper

‘পশুর মতো টেনে নর্দমায় ফেলা হয় দেহ’! ২০২০ দিল্লি-হিংসায় গোয়েন্দাকর্তা খুনে যাবজ্জীবন প্রাক্তন আপ নেতা-সহ ৫ জনের

বিচারক প্রবীণ সিংহের পর্যবেক্ষণ, ‘‘গোষ্ঠীসংঘর্ষের সময় নৃশংস ভাবে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ওই বর্বরতায় গা গুলিয়ে ওঠে। অসুস্থ লাগে।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১৭:৫৯
(বাঁ দিকে) নিহত অঙ্কিত শর্মা। তাহির হুসেন (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) নিহত অঙ্কিত শর্মা। তাহির হুসেন (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

২০২০ সালে দিল্লি-হিংসার সময়ে খুন হয়েছিলেন গোয়েন্দা আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা। সেই ঘটনায় প্রাক্তন আপ নেতা তাহির হুসেন-সহ পাঁচ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দিল দিল্লির আদালত। শুক্রবার করকরডুমা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক (এএসজে) প্রবীণ সিংহের পর্যবেক্ষণ, ‘‘গোষ্ঠীসংঘর্ষের সময় নৃশংস ভাবে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ওই বর্বরতায় গা গুলিয়ে ওঠে। অসুস্থ লাগে।’’ সাজা ঘোষণার পরে তাহিরের দাবি, তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হবেন। এই রায় ‘আগে থেকেই নির্ধারিত’ ছিল বলে তাঁর দাবি।

গোয়েন্দা আধিকারিকের খুনের ঘটনায় গত ১৩ জুলাই তাহির, নাজিম, কাশিম, জাভেদ এবং আনাসকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল নিম্ন আদালত। শুক্রবার তাঁদের যাবজ্জীবন দেওয়া হল। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, ‘‘পশুর মতো করে দেহ টেনে নিয়ে নর্দমায় ফেলা হয়েছিল।’’ তাঁর কথায়, ‘‘দোষীদের দাবি, তাঁরা তাঁদের পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। সেই আবেদনকে ছাপিয়ে যায় অপরাধের ভয়াবহতা।’’

দিল্লি পুলিশের তরফে আদালতে দাবি করা হয়েছিল, তাহির-সহ পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক। অন্য দিকে, তাহিরের আইনজীবীর সওয়াল, ২০২০ সালের ওই খুনের ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম নয়। সেরকম হলে তবেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়। তা ছাড়া জেলে তাঁর মক্কেলের আচরণও যথেষ্ট ভাল ছিল। দুই পক্ষের সওয়াল শুনে বিচারক জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড শেষ পথ। এ ক্ষেত্রে দোষীদের ‘শৃঙ্খলাপরায়ণ’ করা সম্ভব। খুন এবং হিংসা ছড়ানোর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাহিরকে। যদিও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলায় তাঁকে বেকসুর খালাস করা হয়েছে। তাহির জানিয়েছেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন। তাঁর কথায়, ‘‘এখানে (নিম্ন আদালত) ম্যাচ আগে থেকেই ফিক্সড ছিল। উচ্চ আদালতে ন্যায় পাব।’’

২০২০ সালের ২৫ জুলাই বাড়ি থেকে জিনিসপত্র কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান গোয়েন্দা আধিকারিক অঙ্কিত। পরে একটি নর্দমা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ দাবি করে, হিংসার সময় একদল লোক তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়ে খুন করে। পরে তাঁর দেহ নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়, ৫১ বার কোপানো হয়েছিল অঙ্কিতকে। দিল্লির হিংসায় প্রাণ হারিয়েছিলেন মোট ৫৩ জন। ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি অঙ্কিতের বাবা রবীন্দ্র কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হয়। অঙ্কিতের বাবা তাহিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন।

আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন দিল্লির মন্ত্রী কপিল মিশ্র। তিনি এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ন্যায়বিচার পাওয়া শুরু হল। তাঁর মতে, অপরাধটি ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’। মামলা হাই কোর্টে উঠলে চরম সাজা হবে।

Delhi Riot AAP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy