বিশ্বের জলবায়ুতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে চলেছে ‘এল নিনিয়ো’। জলবায়ুগত এই বিপর্যয়ে আগামী ছ’মাসে বিশ্বে অন্তত তিন লক্ষ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবে’র একটি সমীক্ষা। এর মধ্যে শুধু ভারতেই মৃত্যুর সংখ্যা ৫৫ হাজার ছুঁতে পারে।
‘এল নিনিয়ো’ হল প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার একটি জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাবে বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। সেই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আবহাওয়ায়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এল নিনিয়ো দেখা যায়। এর স্থায়িত্ব থাকে প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিস্থিতি রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের ওই বিশেষ অঞ্চলে, তাতে জল ক্রমশ উষ্ণ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ একে ‘সুপার এল নিনিয়ো’ বলে উল্লেখ করছেন।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, ‘এল নিনিয়ো’র প্রভাব আগামী ডিসেম্বরে চরমে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। আর ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবে’র তৈরি ‘এল নিনিয়ো হিট মর্টালিটি ট্র্যাকার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ‘সুপার এল নিনিয়ো’র ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ হবে। এতে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হবে। মৃত্যুর একটা সম্ভাব্য হিসাব তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে। তাতে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর বড় অংশই ঘটতে পারে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে আগামী মার্চ পর্যন্ত ভারত ও নাইজিরিয়ায় তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে। ভারতে ওই সময়ে অন্তত ৫৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা। আর নাইজিরিয়ায় সম্ভাব্য মৃত্যু কমপক্ষে ৫৬ হাজার।
ভারত ও নাইজিরিয়ার পাশাপাশি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ায় তাপপ্রবাহে কমপক্ষে ২৯ হাজারের মৃত্যু হতে পারে। ব্রাজিলে সেই সংখ্যা ১৯ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে অনুমান। ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবে’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোনের কথায়, ‘অতিরিক্ত তাপের কারণে কোথায় মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, তা আগাম চিহ্নিত করা গেলে প্রশাসনের হাতে সময় মিলবে। এতে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সময় পাবে।’’
‘এল নিনিয়ো’র প্রভাব শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আবহাওয়ার স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বদলে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরন ও বাতাসের গতিও প্রভাবিত হতে পারে। এর জেরে শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণের সমস্যাও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজে’র অধ্যাপক গুফরান বেইগ জানিয়েছেন, ‘এল নিনিয়ো’র প্রভাবে মুম্বইয়ে বায়ুপ্রবাহের গতি কমে যেতে পারে। তাঁর ব্যাখ্যা, এর ফলে বায়ুদূষণের সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে মুম্বইয়ে।