E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

নারীর চরিত্রহনন সামাজিক হিংসা, রায় আদালতের

নিজের সিনেমা ও বিজ্ঞাপনের ‘অশালীন’ দৃশ্য ছড়ানোর অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছিল মলয়ালি অভিনেত্রী শ্বেতা মেননের বিরুদ্ধে। সেই এফআইআর খারিজ করে দিয়েছে কেরালা হাই কোর্ট।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ০৮:০২

—প্রতীকী চিত্র।

ভিত্তিহীন ভাবে কোনও মহিলার চরিত্র কালিমালিপ্ত করাকে ‘ক্ষতিকর সামাজিক হিংসা’ বলে চিহ্নিত করল কেরালা হাই কোর্ট। বিচারপতি সি এস ডায়াস গত ১১ মার্চ একটি মামলার রায়ে বলেছেন, সমাজ যখন কোনও মহিলার কাজের চেয়ে তাঁর ভাবমূর্তিতে বেশি মনোযোগ দেয়, তখন সেই সমাজ নিজের মানসিক দৈন্যকেই প্রকাশ করে ফেলে।

নিজের সিনেমা ও বিজ্ঞাপনের ‘অশালীন’ দৃশ্য ছড়ানোর অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছিল মলয়ালি অভিনেত্রী শ্বেতা মেননের বিরুদ্ধে। সেই এফআইআর খারিজ করে দিয়েছে কেরালা হাই কোর্ট। শ্বেতার অভিযোগ, অ্যাসোসিয়েশন অব মলয়ালম মুভি আর্টিস্টস-এর সভাপতি পদের নির্বাচনে লড়া থেকে তাঁকে আটকানোই ছিল এই এফআইআরের উদ্দেশ্য। এমনকি সেটি দায়ের হয় ওই নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমার ঠিক আগে। অভিনেত্রীর অভিযোগে সারবত্তা খুঁজে পেয়েছে আদালত। এফআইআর খারিজ করতে গিয়ে বিচারপতিরা বলেছেন, ‘‘যে সময়ে অভিযোগটি দায়ের হয়েছিল, তাতেই জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে যে, এটি অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক।’’ এফআইআর, তথ্যপ্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট আইন খতিয়ে দেখে আদালত রায় দিয়েছে, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে যে অপরাধের অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা তিনি আদৌ করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তাঁর নাম-যশে কালিমালেপন। বিচারপতিরা বলেছেন, ‘‘কোনও ভিত্তি ছাড়া এক জন মহিলার চরিত্রহনন এক ধরনের ক্ষতিকর সামাজিক হিংসা। কোনও কথা বলে দেওয়া সহজ, কিন্তু অনেক সময়ে তা চিরস্থায়ী দাগ রেখে যায়। এমন বলা হয়ে থাকে যে, কোনও মহিলা যখন সামাজিক জীবনে নাম, খ্যাতি, পরিচিতি অর্জন করে ফেলেন, তখন শুধু মেধা বা যুক্তি দিয়ে তাঁকে হারানো কঠিন হয়ে পড়ে। তখনই বহু-ব্যবহৃত অস্ত্র হল, তাঁকে প্রকাশ্যে অপদস্থ করা।’’

এই মামলায় অভিযোগকারী মার্টিন মেনাচেরির বক্তব্য ছিল, বেশ কয়েক বছর আগে একটি জন্মনিরোধকের বিজ্ঞাপন ও কিছু চলচ্চিত্রে ‘অশালীন’ দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন শ্বেতা। পাল্টা শ্বেতার অভিযোগ ছিল, ওই বিজ্ঞাপন ও সিনেমা সেন্সর কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পেয়েছিল। ছবিগুলি দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে রয়েছে। একটি ছবির জন্য তিনি কেরল সরকারের দেওয়া শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কারও পেয়েছিলেন। শ্বেতার সঙ্গে পর্নোগ্রাফিক সাইটের যোগাযোগের যে অভিযোগ তোলাহয়, তারও প্রমাণ পায়নি আদালত।

শেষ পর্যন্ত শ্বেতা ওই সংগঠনের সভানেত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। আদালতের কথায়, প্রগতিশীল সমাজ মানুষকে বিচার করে তাঁর কাজ বা অবদান দিয়ে। আর সেকেলে সমাজ পড়ে থাকে অপবাদ, চরিত্রহনন ও নীতিপুলিশগিরি নিয়ে। নারীদের ক্ষমতায়ন মানে তাঁদের সাধ্বী হতে হবে এমন নয়। এর মানে হল, তাঁদের স্বকীয়তা, ইচ্ছে ও সাফল্যকে সসম্মান এবং ন্যায্য স্বীকৃতি দেওয়া। হাই কোর্ট সাফ বলেছে, ‘‘ঈর্ষা বা বিদ্বেষের বশে কোনও মহিলার চরিত্রহনন সহ্য করে যে সমাজ, তা অবিচারের প্রতিমূর্তি ছাড়া কিছু নয়।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Keralam Kerala High Court

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy