দিল্লির যন্তর মন্তরের জমায়েতে এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সংসদ ভবন অভিযানে আন্দোলনকারীদের মোকাবিলায় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফের ভূমিকা যথাযথ ছিল না। বিধি মেনে সব কাজ করেনি তারা! ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, গত বুধবার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন র্যাফের ইনস্পেক্টর জেনারেল (আইজি) সীমা ধুন্ধিয়া।
গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করে যাওয়া পড়ুয়া এবং অন্য প্রতিবাদীদের উপর পুলিশি দমনপীড়নের অভিযোগ ওঠে। পেলেট গান বা ছর্রা গুলিতে আহত হন তিন জন। র্যাফের আইজি-র পর্যবেক্ষণ, আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে বাহিনীর মধ্যে কোনও সামঞ্জস্য ছিল না।
সূত্র উদ্ধৃত করে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকা র্যাফ সদস্যদের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত করেননি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন র্যাফের আইজি। তা ছাড়া, দিল্লির কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, সেই বিষয়েও আঞ্চলিক সদর দফতরকে কিছু জানানো হয়নি বলে বৈঠকে জানান তিনি।
হিংসাত্মক ঘটনা রুখতে এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় সেন্ট্রাল রিজ়ার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)-এর আওতায় র্যাফ গঠন করা হয়েছিল। সিআরপিএফ-এর ডিজি জেনারেল জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘটনার পরেই ভুলত্রুটি খতিয়ে দেখার কাজ করে বাহিনী। সেই অনুযায়ী ভবিষ্যতের কর্মপদ্ধতি ঠিক করা হয়।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখেই র্যাফের আইজি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের মতো উপদ্রুত এলাকায় কাজ করা জওয়ান বা আধিকারিককে সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর ভিড় মোকাবিলার দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে তাঁর যুক্তি, পরিস্থিতির ভিন্নতার কারণে কাশ্মীরের মতো পদক্ষেপ দিল্লি, বিহার, অসম কিংবা মহারাষ্ট্রে অচল। এই সমস্ত জায়গায় অনেক ‘মাপা’ পদক্ষেপ করতে হবে বলে জানান তিনি।
অভ্যন্তরীণ বৈঠকে র্যাফের আইজি জানান, পরবর্তী নির্দেশ না-আসা পর্যন্ত দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতিতে বাহিনীর কোনও সদস্য পেলেট গান, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। বাহিনীর অনেক সদস্যের মাথায় হেলমেট এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাকবচ না-দেখে উষ্মাপ্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর নির্দেশ, র্যাফের প্রশিক্ষণ ছাড়া বাহিনীর কোনও সদস্যকে ভিড় নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা যাবে না। র্যাফের সদস্যদের প্রতি আইজি-র বার্তা, প্ররোচনা এবং আপত্তিকর শব্দ প্রয়োগ সত্ত্বেও ধৈর্য এবং পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে।