বিশ্বের নানা প্রান্তে চলা যুদ্ধই কেবল নয়, শান্তির পথে অন্যতম বাধা সন্ত্রাসবাদও। সে কথা আরও একবার উল্লেখ করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রবিবার নয়াদিল্লিতে চিন্ময় মিশনের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর অভিযোগ করেন, কেউ কেউ সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে আপস করছে। কারও নাম না-করলেও মনে করা হচ্ছে, ফের পড়শি পাকিস্তানকেই নিশানা করেছেন বিদেশমন্ত্রী।
জয়শঙ্কর বলেন, “সন্ত্রাসবাদ শান্তির পক্ষে বিপজ্জনক। এটিকে রাষ্ট্রের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর সপক্ষে কোনও যুক্তি থাকতে পারে না।” একই সঙ্গে বিদেশমন্ত্রীর সংযোজন, “সন্ত্রাসবাদ এখনও টিকে রয়েছে, কারণ সব দেশ আপসহীন মনোভাব নিচ্ছে না। ইতিহাস অনেক শিক্ষা দিলেও কেউ কেউ সুবিধার জন্য রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ কষছে।” সন্ত্রাসবাদকে রুখতে বিশ্বের সব দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জয়শঙ্কর।
গত মাসেই রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্ন শুনে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন জয়শঙ্কর। পাকিস্তানের এক সাংবাদিক তাঁর উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘‘পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া কবে বন্ধ করবে ভারত সরকার?’’ এই প্রশ্ন শুনে মেজাজ হারান ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তৎক্ষণাৎ ওই সাংবাদিকের দিকে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘‘একটা সন্ত্রাসবাদী দেশ আবার আমাকে এই প্রশ্নটা করছে?’’
রবিবার নয়াদিল্লির ওই অনুষ্ঠানেই জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, পৃথিবীর দুই প্রান্তে চলা দুই যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল হাত গুটিয়ে অসহায়ের মতো বসে থাকতে পারে না। পূর্ব ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইজ়রায়েল-ইরানের যুদ্ধ থামাতে সকলের সচেষ্ট হওয়া উচিত। যুদ্ধ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান সেখানে আরও একবার স্পষ্ট করেন তিনি। জানান, যে কোনও ধরনের সংঘাত থামানোর একমাত্র উপায় আলোচনা এবং কূটনীতি। জয়শঙ্করের কথায়, ‘‘পৃথিবীতে বর্তমানে দুটো বড় সংঘাত চলছে। একটা ইউক্রেনে, অন্যটা পশ্চিম এশিয়ায়। এর ফল ভুগতে হচ্ছে তাঁদের, সংঘাতের সঙ্গে দূরদূরান্ত পর্যন্ত যাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। যাঁদের এখানে কিছুই করার নেই, তাঁরাই যুদ্ধের মূল্য চোকাচ্ছেন।’’