তিনটি দেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং মিশরে ভারতের দূত ছিলেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন এক সময়ে। নবদীপ সুরি নামে সেই প্রাক্তন কূটনীতিক এ বার ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। সমাজমাধ্যম এক্স-এ একের পর এক পোস্ট করে পঞ্জাবে চলা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন সুরি। সেখানে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার পক্ষে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতকে। তিনটি দেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার পরেও তাঁর জমা দেওয়া নথি কেন বৈধ নয়, সেই প্রশ্নওতুলেছেন সুরি।
পঞ্জাবে আগামী বছরের গোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। সে রাজ্যে এখন এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। সেখানেই সুরির জমা করা কিছু নথির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সুরির বক্তব্য, তিনি যদি এ দেশের বৈধ নাগরিকই না হন, তা হলে অতীতে কী ভাবে তিনটে দেশে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করলেন! আজ এক্স-এর পোস্টে সুরি জানিয়েছেন, বিএলও-র কাছে গিয়ে তিনি ভোটার এবং আধার কার্ডের নথি জমা দিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট বিএলও নাকি তখন তাঁকে আশ্বাসও দিয়েছিলেন যে, সুরির জমা করা নথিপত্র সব ঠিক আছে। সুরির বক্তব্য, আজ এক স্বেচ্ছাসেবী কর্মীর তরফে তাঁকে জানানো হয়, ২০০৩ সালে যখন শেষ বারের মতো নথি জমা নেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে এখনকার জমা দেওয়া তথ্যে কিছু গরমিল পাওয়া গিয়েছে। সুরিজানিয়েছেন, ২০০৩ সালে তিনি ভারতে ছিলেন না। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিএলও-র সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। তাঁকে জানানো হয়েছে যে, তাঁকে গিয়ে নোটিস সংগ্রহ করতে হবে। এবং সেই সঙ্গেই আরও এমন কিছু নির্দিষ্ট নথি তাঁকে দিতে হবে যা থেকে এটা প্রমাণ করা যায় যে, তিনি আদতে ভারতের নাগরিক। তিনি ২০০৩ সালে ভারতে না থাকার কথা জানানোয় তাঁর পাসপোর্টদেখতে চাওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সুরি।
সুরি এক্স-এ আজ লিখেছেন, ‘আমার কাছে যে নথি এখন চাওয়া হচ্ছে, তা ভোটার বা আধার কার্ড ছাড়া অন্য কোনও নথি। একটা প্রশ্ন না করে পারছি না, ভারতকে তিন তিনটি দেশে প্রতিনিধিত্ব করার পরেও যদি আমাকে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে এত ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়, তা হলে দেশের সাধারণ নাগরিকদের পরিণতি কী হতে চলেছে?...’