ভারত ও চিনের মধ্যে যাত্রিবিমান চলাচল একটু একটু করে স্বাভাবিক হচ্ছে। এ বার চালু হতে চলেছে দিল্লি-গুয়াংঝৌ বিমান পরিষেবা। দিল্লিতে ব্রিক্স সম্মেলন শুরুর দিনেই ঘোষণা করল চায়না সাদার্ন এয়ারলাইন্স।
ব্রিক্সের বৈঠকে যোগ দিতে শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ দিল্লিতে অবতরণ করেছে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিমান। সঙ্গে এসেছেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-সহ মোট ৬৭ জনের দল। ব্রিক্স সম্মেলনের ফাঁকে শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন জিনপিং। ভারত-চিনের এই বৈঠক শুরু হওয়ার আগে গ্লোবাল টাইমস জানাল, ছ’বছর বন্ধ থাকার পর দিল্লি-গুয়াংঝৌ বিমান পরিষেবা আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আবার চালু হয়ে যাবে। চিনা বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এর ফলে প্রতি সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৮ জোড়া যাত্রাপথে তাদের উড়ানের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:
ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্কের ওঠানামা নানা সময়েই হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যেও একাধিক বার তৈরি হয়েছে পারস্পরিক সংঘাতের পরিবেশ। ২০১৭ সালে ডোকলামকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে অশান্তি বাধে। তার পর ২০১৯ সালে ভারত সফরে এসেছিলেন জিনপিং। পরের বছরেই লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাবাহিনী সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘাতের জেরে একটা বড় সময় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। যদিও ভারত-চিন বিমানযোগাযোগ তখন অচল হয়ে যায়নি। কোভিড মহামারির সময় তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এ বছরের গোড়া থেকে অল্প অল্প করে শুরু হতে থাকে সেই যোগাযোগ। এয়ার চায়না এপ্রিল মাসে দিল্লি-বেজিং উড়ান ফের চালু করেছিল। এপ্রিলেরই ১৮ তারিখ কলকাতা-কুনমিং উড়ান চালু করে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স। ভারতের ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সও দিল্লি ও কলকাতা থেকে চিনগামী বেশ কিছু উড়ান চালু করেছে ৩০ মার্চ থেকে। এ বার খুলছে গুয়াংঝৌয়ের আকাশপথও। বন্দর শহর গুয়াংঝৌ চিনের একটি প্রাচীন এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র। এক সময় নাম ছিল ক্যানটন।