‘মনুস্মৃতি’র উপরে ভিত্তি করে হিন্দু আইন গড়ে উঠেছে— এই ধারণা ভুল, বললেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। ‘প্রাচীন জ্ঞান ও আইনি বুদ্ধিমত্তা’ শীর্ষক এক বক্তৃতায় মেহতা বলেন, হিন্দু আইনকে ‘মনুস্মৃতি’-র সঙ্গে এক করে দেখা একটি ভুল। কারণ, অসম ও পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের অধিকাংশ হিন্দুই ‘মিতাক্ষরা’ মতবাদ অনুসরণ করেন, যা ‘যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি’ ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সলিসিটর জেনারেলের কথায়, “যাঁরা দাবি করেন যে হিন্দু আইন ‘মনুস্মৃতি’ ভিত্তি করে তৈরি, তাঁরা তথ্যগত ভাবে ভুল বলেন। কারণ ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে ‘মিতাক্ষরা’ মতবাদ অনুসৃত হয়, যা ‘যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি’-নির্ভর।”
তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা করে মেহতা বলেন, “ভারতে সপ্তম শতকের আগে থেকেই হিন্দু আইনের দু’টি প্রধান ধারা প্রচলিত রয়েছে। একটি ‘মিতাক্ষরা’ মতবাদ এবং অন্যটি ‘দায়ভাগ’ মতবাদ। ‘যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি’-র উপর ভিত্তি করে ‘মিতাক্ষরা’ মতবাদটি গড়ে তুলেছিলেন পণ্ডিত বিজ্ঞানেশ্বর। ‘মনুস্মৃতি’র উপরে ভিত্তি করে এই মিতাক্ষরা মতবাদটি আদপেই গড়ে ওঠেনি, যদিও এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে।” মেহতার মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও অসম ছাড়া দেশের সর্বত্রই ‘মিতাক্ষরা’ মতবাদ অনুসৃত হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে প্রচলিত ‘দায়ভাগ’ মতবাদ ‘মনুস্মৃতি’-র উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
উত্তরাধিকার আইন ঘিরে এই দুই মতবাদের পার্থক্য ব্যাখ্যায় মেহতা বলেন, “‘দায়ভাগ’ মতবাদে উত্তরাধিকার শুধু তাঁদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল, যাঁরা ‘পিণ্ডদান’ করার অধিকারী। এই ব্যবস্থায় ‘পিণ্ড’ বলতে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে নিবেদিত চালের পিণ্ডকে বোঝানো হত। ফলে ‘দায়ভাগ’ মতবাদে উত্তরাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রটি তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি সীমাবদ্ধ। এই মতবাদ মূলত প্রচলিত ছিল অসম ও বঙ্গে।”