E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

কক্ষে গরহাজিরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ফের আলোচনার প্রস্তাব

লোকসভায় এফসিআরএ বিল যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো কিংবা রাজ্যসভায় কেরলের নাম পরিবর্তিত হয়ে কেরলম হওয়া এবং সমবায় বিল— তিনটি বিষয়েই অনুপস্থিত ছিলেন অমিত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ অগস্ট ২০২৬ ০৯:০৭
অমিত শাহ।

অমিত শাহ। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের পরে যে অমিত শাহ তৃণমূলকে ভাঙিয়ে লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করানোর ছক কষছিলেন, পরিস্থিতির চাপে সেই অমিত শাহকে গোটা বাদল অধিবেশনে সংসদের কোনও কক্ষে দেখা গেল না! বিরোধীরা বলছেন, যন্তর মন্তরের আন্দোলনে শাহ এত কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন যে সংসদে এসেও নিজের ঘরেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।

আজও লোকসভায় এফসিআরএ বিল যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো কিংবা রাজ্যসভায় কেরলের নাম পরিবর্তিত হয়ে কেরলম হওয়া এবং সমবায় বিল— তিনটি বিষয়েই অনুপস্থিত ছিলেন অমিত। সংশ্লিষ্ট বিল ও প্রস্তাব পেশ করেন শাহের প্রতিমন্ত্রীরা। কেন তিনি সংসদে এসেও কক্ষে আসছেন না? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘আমি প্রতিদিন সংসদে আসছি। কিন্তু বিরোধীরা সংসদ চালাতে ইচ্ছুক নয়।’’ শাহের দাবি, হট্টগোলের কারণে রোজ অধিবেশন মুলতুবি হচ্ছে বলেই তিনি কক্ষমুখো হচ্ছেন না। বিরোধীদের পাল্টা বক্তব্য, সংসদ মানে কেবল নিজের ঘরে আসা বোঝায় না। স্বরাষ্ট্র-সমবায় মন্ত্রকের বিল পেশ বা পাশ যখন হচ্ছে, সেই আলোচনায় (বিশেষ করে রাজ্যসভায়) কেন তিনি অনুপস্থিত থাকছেন!

সংসদের শেষ দু’দিনে যাতে অন্তত ছাত্র সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তার জন্য আজ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে তাঁকে বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন শাহ। অধিবেশন উঠে যাওয়ার মুখে কেন ওই উদ্যোগ, কেন শাহ দশ দিন আগে ওই পদক্ষেপ করলেন না? প্রশ্ন বিরোধীদের। জবাবে কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ‘‘আমি সংসদীয় মন্ত্রী হিসাবে গোড়া থেকেই আলোচনা শুরুর জন্য বিরোধীদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বিরোধীরা পালাচ্ছেন। তাঁরা আসলে আলোচনা চান না।’’ রিজিজুর দাবি, ‘‘অধিবেশনের শেষ দিনেও বিরোধীরা ছাত্র সমস্যা নিয়ে আলোচনায় রাজি হলে সরকার সময় বাড়াতে প্রস্তুত।’’

গোড়া থেকেই ছাত্র আন্দোলনে কার নির্দেশে পুলিশ লাঠি ও পেলেট গান চালিয়েছে, তা নিয়ে অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করে আসছেন রাহুল গান্ধীরা। অন্য দিকে শাহের দাবি, একটি বিবৃতি দিয়ে ওই আন্দোলনের ব্যাপ্তি বোঝানো সম্ভব নয়। সামগ্রিক আলোচনা প্রয়োজন।’’ শাহের দাবি অসার বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। অতীতে লাদাখের গলওয়ানে চিনের হামলার সময়ে প্রতিরক্ষী রাজনাথ সিংহ বিবৃতি পড়ে দায় সেরেছিলেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বিভিন্ন সময়ে বিদেশ সফরের সাফল্য সংসদে বিবৃতির মাধ্যমে তুলে ধরেন। বিশদ ব্যাখ্যা করেন না। বিরোধীদের দাবি, সেই যুক্তিতেই শাহের বিবৃতিই কেবল দাবি করা হয়েছে। কেননা কেউই তাঁর কাছে ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস জানতে আগ্রহী নন।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Lok Sabha

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy