একতলায় দোকানের জায়গা বাড়াতে গিয়ে একটি দেওয়াল ভাঙা হতেই হুড়মুড়় করে ধসে পড়েছিল ‘হস্টেল ডেজ়’। ছাত্রদের থাকার জন্য ভাড়া দেওয়া দিল্লির সত্য নিকেতনের বহুতলটি সংস্কারের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার জিজ্ঞাসাবাদে এমনই দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেই বাড়ির পাশেই মহিলাদের একটি হস্টেলকে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে সেটিও ভাঙা হবে বলে গত রবিবার জানিয়েছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। আজ সকাল থেকেই ছাত্রীদের হস্টেলটি ভাঙা শুরু হয়েছে। বিপজ্জনক বাড়ি ভাঙা শুরু হয়েছে দিল্লির লক্ষ্মীনগর, মুখার্জিনগরেও।
সনোজ কুমার নামে ওই ঠিকাদারকে উত্তরপ্রদেশের কাশগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সনোজ পুলিশকে জানান, গত আট-দশ দিন ধরে ওই বাড়িটির মেরামতি চলছিল। সম্প্রতি বৃষ্টির পরে বেসমেন্টে জল-আবর্জনা জমায় সেটি রাবিশ দিয়ে ভরে একতলার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। দৈনিক ২৮০০ টাকা মজুরিতে সেই কাজের দায়িত্ব পেয়েছিলেন সনোজ। কাজ চলাকালীন দেখা যায়, একতলায় একটি দেওয়ালের জন্য জায়গা কম পড়ছে একটি দোকানঘরের। তাই দেওয়ালটি ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশের বক্তব্য, সম্ভাব্য বিপদ আঁচ না করেই দেওয়ালটি ভাঙা হয়েছিল। সম্ভবত তাতেই ভারসাম্য হারিয়ে ধসে পড়ে বাড়ি।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, সত্য নিকেতন এলাকার বিজেপি বিধায়ক তথা ডেপুটি মেয়র অনিল শর্মার একাধিক পেয়িং গেস্ট (পিজি) রাখার ব্যবসা চলে ওই এলাকায়। তাই তিনি ব্যবসা বাঁচাতে এখনও অন্য মালিকদের পক্ষ নিয়ে চলেছেন। আপ বিধায়ক সঞ্জীব ঝা বলেন, ‘‘১৯৮৬ সালের জমির রেকর্ড অনুযায়ী, অনিল শর্মার বাবার ৩০৭ বর্গগজ জমি ছিল। কী করে তাঁর ছেলে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পাঁচশো বর্গগজের বসতবাড়ি ও পাঁচশো বর্গগজের একটি হস্টেলের মালিক হলেন?’’ আপের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-ও অনিলের ইস্তফার দাবি তুলেছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লির নগরোন্নয়ন মন্ত্রী আশিস সুদ কৃত্রিম মেধা দিয়ে নিজের আশির দশকের চেহারার ছবি তৈরির দৌড়ে গা ভাসিয়ে সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
ওই হস্টেলটি লিজ় নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা সুধাংশু লভনীশকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গী শুভম ত্যাগী পলাতক। সূত্রের মতে, বাড়িটি জরাজীর্ণ হওয়ায় মাসিক মাত্র ১.০৫ লক্ষ টাকাতেই সেটি লিজ় দিতে রাজি হয়ে যান বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্ত। গ্রেফতারের পরে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করে সুধাংশুদের যুক্তি, পড়ুয়াদের সঙ্গে হওয়া চুক্তিপত্রেই বলা ছিল, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প, প্রবল বৃষ্টির মতো কারণে কেউ আহত হলে বা জিনিসপত্র হারিয়ে গেলে তাঁরা ক্ষতিপূরণ দেবেন না। সুধাংশু, সনোজ ও হরিরামের ছেলে মহেশের দু’দিনের পুলিশি হেফাজত হয়েছে। অভিযুক্তদের অনুরোধে দিল্লির আদালতে রুদ্ধদ্বার শুনানি হয়। আগামিকাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা।