Advertisement
E-Paper

কী ভাবে মদ পাচারের সঙ্গে জড়ালেন নেহা? এই চক্রে কারা জড়িত, সমস্তিপুরের তরুণী সম্পর্কে উঠে এল নয়া তথ্য

গত শনিবার বিহারে স্বতন্ত্রতা সেনানী এক্সপ্রেস থেকে ৭৫ লিটার মদ-সহ গ্রেফতার হন নেহা ঝা। বর্তমানে তিনি সমস্তিপুরের জেলে বন্দি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:২০
নেহা ঝা। ফাইল চিত্র।

নেহা ঝা। ফাইল চিত্র।

৭৫ লিটার মদ-সহ গ্রেফতার হওয়া নেহা ঝা কী ভাবে এই চক্রের সঙ্গে জড়ালেন? নেহা কি একাই এই কাজ করতেন, না কি তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যও এই পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গিয়েই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই নেহা এবং তাঁর পরিবারের কিছু সদস্য এই কারবারের সঙ্গে জড়িত।

সূত্রের খবর, নেহা স্নাতক হওয়ার পর এই বেআইনি ব্যবসায় নামেন। তদন্তকারীদের বক্তব্য, স্মার্ট লুক, ঝরঝরে ইংরেজিতে কথা বলা নেহাকে সহজে কেউ সন্দেহ করতে পারতেন না যে, তিনি কোনও পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত। সমস্তিপুরে আগেও এ ভাবে নেহা মদ পাচার করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সূত্রের দাবি, নিজেকে মেডিক্যাল রিপ্রেজ়েনটেটিভ হিসেবে পরিচয় দিতেন। পড়শিরাও জানতেন যে, নেহা কোনও বড় চাকরি করেন। দামি পোশাক, দামি প্রসাধনী ব্যবহার করতেন। ফলে কারও সন্দেহ হয়নি।

তবে তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, নেহার পরিবার এই কারবারের সঙ্গে অনেক দিন ধরেই জড়িত। তাঁর বাবা মদ পাচার করতে গিয়ে গ্রেফতার হন। এক দিদি নিশুও একই অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। নেহার জামাইবাবু পরে সেই কারবারের দায়িত্ব নেন। কিন্তু সূত্রের খবর, তিনিও গ্রেফতার হন মদ পাচারের অভিযোগে। তার পরই সেই দায়িত্ব সামলানোর ভার এসে পড়ে নেহার উপর। সমস্তিপুরের জিআরপি ইনস্পেক্টর বীরবল কুমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই সমস্তিপুর দিয়েই আগেও মদ পাচার করেন নেহা। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, চিকিৎসক এবং বিত্তশালীদের কাছে সেই মদ পৌঁছে দিতেন মোটা টাকার বিনিময়ে। কিন্তু তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই চক্র শুধু চিকিৎসক এবং বিত্তশালীদের মদ সরবরাহেই আটকে নেই, এর ব্যাপ্তি আরও বেশি। কত দূর এই চক্রের জাল ছড়িয়ে, তা খুঁজে বার করার চেষ্টা চলছে।

তদন্তে উঠে এসেছে দরভঙ্গা-যোগও। দরভঙ্গায় পড়াশোনা করতেন নেহা। সেখানে ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়িয়ে তুলেছিলেন তিনি। তদন্তকারী সূত্রের খবর, দরভঙ্গা স্টেশনে মদ নিয়ে নামার উপায় নেই। কারণ, সেখানে ব্যাগ স্ক্যান করাতে হয়। তাই দরভঙ্গার আগের স্টেশন লখিসরায়ে মদের বোতলভর্তি ব্যাগ নিয়ে নেমে পড়তেন নেহা। সেখান থেকে বাইক বা গাড়ি ভাড়া করে দরভঙ্গার ভাড়াবাড়িতে যেতেন। তার পর সেখান থেকেই মদ পৌঁছে যেত চিকিৎসক এবং বিত্তশালীদের কাছে।

সূত্রের খবর, মদের বোতল সরাসরি চিকিৎসকদের ক্লিনিক অথবা বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। কোন কোন চিকিৎসক এবং বিত্তশালীদের মদ সরবরাহ করতেন, নেহার কাছ থেকে কারা মদ কিনতেন, তারও একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, নেহার মোবাইল ঘেঁটে বেশ কয়েক জন চিকিৎসক এবং ব্যবসায়ীর হদিস পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার স্বতন্ত্রতা সেনানী এক্সপ্রেস থেকে ৭৫ লিটার মদ-সহ গ্রেফতার হয়েছেন নেহা।

Bihar

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy