Advertisement
E-Paper

আনকোরা ‘আরশোলা’ আর পোড়খাওয়া ওয়াংচুকের সঙ্গে জেন জ়ি-ভিড়, কিসের সঙ্কেত পেয়ে পিছু হটল মোদী সরকার

৬ বছর আগের আন্দোলনের সঙ্গে এই আন্দোলনের তফাত অনেক। প্রেক্ষিতও ভিন্ন। প্রথমটি ছিল কৃষকদের লড়াই, যার মাথায় ছিলেন উত্তর ভারতের প্রবীণ কৃষক নেতারা। আর এ বারের আন্দোলনের মঞ্চ থেকে মাঠ ভরা ছিল তারুণ্যের স্পর্ধায়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ২২:৫৯
CJP Protest

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

১২ বছরের শাসনে এই প্রথম!

এই প্রথম বার নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন। অন্য দিকে, মোদী জমানায় এই নিয়ে দ্বিতীয় বার পিছু হটল কেন্দ্র।

প্রথম ধাক্কা ছিল ২০২০ সালে। কৃষক আন্দোলনের চাপে নতিস্বীকার করতে হয়েছিল মোদীর সরকারকে। তবে ৬ বছর আগের আন্দোলনের সঙ্গে এই আন্দোলনের তফাত অনেক। প্রেক্ষিতও ভিন্ন। প্রথমটি ছিল কৃষকদের লড়াই, যার মাথায় ছিলেন উত্তর ভারতের প্রবীণ কৃষক নেতারা। আর এ বারের আন্দোলনের মঞ্চ থেকে মাঠ— ভরা ছিল তারুণ্যের স্পর্ধায়।

শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনার আগেই নিজস্ব এক্স হ্যান্ডেলে নিজের ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র। তাঁর পদত্যাগই ছিল জেন জ়ি এবং মিলেনিয়াল বিক্ষোভকারীদের প্রথম দাবি। তাই ওই আলোচনায় না-বসার কোনও কারণ দেখেনি সিজেপি। আলোচনা শেষে একসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা-জিতেন্দ্র সিং এবং সিজেপি-র দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। ‘আরাশোলা’দের দুই প্রতিনিধি জানান, সরকারপক্ষ মোটামুটি সব দাবিই মেনে নিয়েছে। তাই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হচ্ছে। সৌজন্য বিনিময়ের জন্য হাত মেলায় দুই পক্ষ।

যন্তর মন্তরে ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভ।

যন্তর মন্তরে ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভ।

এই প্রথম!

নরেন্দ্র মোদীর ২০১৪ সাল থেকে শাসনকালে এই প্রথম আন্দোলনের চাপে কোনও মন্ত্রীকে পদ ছাড়তে হয়েছে। সেটাও আবার আনকোরা এবং অরাজনৈতিক সমস্ত মুখের জন্য! আসলে ‘আরশোলা’দের আন্দোলন যে ভাবে দিল্লির পরিধি পেরিয়ে গোটা দেশে ছড়াচ্ছিল, তাতে সরকার যে বিরাট চাপে, সে ব্যাপারে মতভেদ নেই। মোদী সরকারের কর্তাব্যক্তিরাও একান্তে সে কথা স্বীকার করছিলেন। বিশেষ করে দেশের যুব সমাজ যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভে শামিল। ধর্মেন্দ্রের মূল্যে আপাতত আরও বড় ‘ক্ষতির’ হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করল বিজেপি। কিন্তু অনেকেরই মতে, নিট-প্রশ্ন ফাঁস উপলক্ষ মাত্র। জেন জ়ি-র অসন্তোষের শিকড় আরও গভীরে। তার সমাধান না-হওয়া পর্যন্ত সরকারের ‘বিপদ’ পুরোপুরি কাটল, এমন কথা বলা চলে না। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগ দেশের রাজনীতিতেই বিরল ঘটনা। এতটাই বিরল যে, এর সমান্তরাল উদাহরণ খুঁজে পেতে হলে ২০১৮ সালে ফিরতে হয়। সে বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদ থেকে এমজে আকবর পদত্যাগ করেছিলেন। তবে অভিযোগ ছিল অন্য এবং গুরুত্বও ভিন্ন। ২০১৬ সাল থেকে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা সাংবাদিক-রাজনীতিক আকবরের বিরুদ্ধে একের পর এক মহিলাঘটিত অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। দেশে মি-টু আন্দোলনের আবহে একাধিক মহিলা যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন তাঁর বিরুদ্ধে। আকবর নিজে থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। ধর্মেন্দ্রকে ইস্তফা দিতে হল। সৌজন্যে জেন জ়ি।

অনড়, এককাট্টা জেন জ়ি

যন্তর মন্তরে সিজেপি-র মঞ্চে গিয়ে জেন জ়ি-র ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি জানান, গত এক যুগ ধরে তাঁরা অর্থাৎ বিরোধীরা যা করতে পারেননি, তা করে দেখিয়েছে যুব সম্প্রদায়। রাত ১২টার সময় ভিডিয়োবার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যেরা এগিয়ে এসেছেন আলোচনার জন্য। ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের পর কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বলেন, ‘‘প্রত্যেক শাসকের জন্য এটা একটি শিক্ষা হয়ে থাকল।’’ বস্তুত, নিট-কাণ্ডে ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগ আন্দোলনের গোড়া থেকেই এক নম্বর দাবি ছিল আন্দোলনকারীদের। সেই দাবি সামনে রেখেই ২৬ দিন অনশন করেছিলেন সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুক। দাবি মেটার আগেই অবশ্য অনশন প্রত্যাহার করে নেন তিনি। সিজেপি কিন্তু দাবি থেকে সরেনি। শুক্রবার কনস্টিটিউশন ক্লাবে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে আলোচনাতে সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন সংগঠনের দুই নেতা সৌরভ ও আশুতোষ। দাবি বিবেচনার জন্য কেন্দ্র এক দিন সময় চেয়েছে, বৈঠক থেকে বেরিয়ে জানিয়েছিলেন তাঁরা। পরে সন্ধ্যায় অবশ্য সরকারি সূত্রে বলা হয়, ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা তাঁদের বিবেচনাতেই নেই। কারণ, ‘সেটা সহজতম কাজ। দায়িত্ব এড়িয়ে পালিয়ে যাওয়া।’ সরকার মূল সমস্যা সমাধান করবে, দাবি করে বিজেপি সূত্র। সেই লক্ষ্যে প্রশ্ন ফাঁসে অপরাধীদের ১০ বছর জেল, ১০ কোটি টাকা জরিমানা করার বিলে অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বদলি করা হয় কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিবকে। নিট অর্থাৎ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা যারা নেয়, সেই ন্যশনাল টেস্টিং এজেন্সির ৪৭ জন আধিকারিককেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

দাবিতে অনড় জেন জ়ি— ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

দাবিতে অনড় জেন জ়ি— ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টেয় সরকারের সঙ্গে ফের বসার কথা ছিল সিজেপি-র। কিন্তু সকালেই তারা জানিয়ে দেয়, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না-করলে আলোচনা অর্থহীন। এই দাবি নিয়ে কোনও রকম দর কষাকষি করতে তারা নারাজ। কয়েক জন আন্দোলনকারীর সঙ্গে আলোচনা সেরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধীও বলে দেন, ধর্মেন্দ্রের ইস্তফাই বিরোধীদের প্রথম দাবি। শিক্ষা থেকে অন্য মন্ত্রকে সরিয়ে ধর্মেন্দ্রকে মন্ত্রী রেখে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যেই নাটকীয় পট পরিবর্তন। এক্স হ্যান্ডেলে ধর্মেন্দ্র জানিয়ে দেন, তিনি পদত্যাগ করেছেন।

দীর্ঘ সেই পোস্টে ধর্মেন্দ্র লিখেছেন, ‘‘দেশের যুবশক্তি যাতে সংশয়ের জালে জড়িয়ে না-পড়ে সে ব্যাপারে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’’ তবে তাঁর এ-ও অভিযোগ, যন্তর মন্তর এবং গোটা দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি তার সুযোগ নিচ্ছে। তিনি লেখেন, ‘‘দেশের ঐক্য যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, এক জন পড়ুয়াও যাতে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে, আমাদের সন্তানেরা যাতে পড়াশোনা, নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনের কাজে মনোনিবেশ করতে পারে—সেই কারণে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পেশ করেছি।’’ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে দুপুরেই ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

আন্দোলনের জয়!

আন্দোলনের জয়!

ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও নাছোড় জেন জ়ি

‘আরশোলা’দের আন্দোলনকে অন্য মাত্রা দিয়েছিল শিক্ষাকর্মী, সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুকের অনশন। কিন্তু গত শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তর চত্বরে সিজেপি-র প্রতিবাদস্থল থেকে তাঁকে জোরপূর্বক সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা দেখা করেন। স্যুপ খেয়ে ২৫ দিন পর অনশন ভাঙেন ওয়াংচুক। প্রশ্ন ওঠে আন্দোলনের গতিপথ নিয়ে। ওয়াংচুক এবং সিজেপি-র প্রধানদের মতপার্থক্য শুরু হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে। মুখপাত্র সৌরভ তা নস্যাৎ করে দেন। তিনি জানান, ওয়াংচুকের সঙ্গে তাঁদের কোনও মতপার্থক্য নেই। পাশাপাশি তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমরা যখন কিছু শুরু করেছি, তখন শেষ পর্যন্ত যাব। আমরা ওয়াংচুক স্যারের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। ১১ কেজি ওজন কমেছে গিয়েছে। উনি একটি চিঠি লিখেছেন। আমরা তাঁর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে দেব না। আমরা এই আন্দোলনকে তার চূড়ান্ত পরিণতির দিকেই নিয়ে যাব।” সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও গত শুক্রবার সকালে যন্তর মন্তরের সমাবেশে দেওয়া ভাষণে স্পষ্ট করে দেন, ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের দাবি বহাল থাকবে। সুতরাং ওয়াংচুকের অনশন তাঁদের আন্দোলনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করলেও তিনি-ই শেষ কথা নন। ধর্মেন্দ্র ইস্তফা দেওয়ার পর সকল আন্দোলনকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওয়াংচুক। তাঁর কথায়, ‘‘ওঁরা যে ভাবে শান্তি বজায় রেখেছেন, আমি তাকে সম্মান করি। আমি আশা করি, এই শান্তি বজায় রাখব এবং ভবিষ্যতে কোথাও কোনও অন্যায় ঘটবে না। আমাদের সংস্কারের জন্য কাজ করতে হবে। শুধু আত্মসমর্পণ বা ইস্তফার মাধ্যমে কোনও জাতি গঠিত হয় না। শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার হওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে আরও কাজ করা প্রয়োজন।’’

‘আরশোলা’দের পক্ষে-বিপক্ষে

ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার পর রাহুল ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির সৈনিকদের। ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেন, ‘‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে এটাই প্রথম এবং বিশাল পদক্ষেপ। সারা দেশের ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন। আমরা তোমাদের সকলের জন্য গর্বিত।’’ অন্য দিকে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ধর্মেন্দ্রের ‘দৃঢ় সিদ্ধান্ত’কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘‘ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং অন্যান্য উদ্যোগের পাশাপাশি, যুগান্তকারী জাতীয় শিক্ষা নীতির সফল ভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন উনি।’’ নিতিনের দাবি, বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আদতে তাঁর সততা এবং নিঃস্বার্থ সেবার সর্বোচ্চ মানকে প্রতিফলিত করেছে। এরই মধ্যে হিমাচল প্রদেশের রাজ্যপাল কবিন্দর গুপ্ত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শনিবার তিনি অভিযোগের সুরে জানিয়েছেন, মূল বিষয়গুলো ছাড়িয়ে বৃহত্তর কোনও উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এই আন্দোলনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্রে নিজের মতামত প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যখন ‘ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে’ গোষ্ঠী কোনও প্রতিবাদ-আন্দোলন দখল করে নেয় বা হিন্দুত্ব নিয়ে ভুল কথা বলে, তখন ওই প্রতিবাদের আসল উদ্দেশ্য বোঝার প্রয়োজন হয় বইকি।’’

‘আরশোলা’দের দাবিদাওয়া

‘ককরোচ’দের আরও কিছু দাবিদাওয়া আছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি; নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে ১ কোটি করে টাকা; যন্তর মন্তরের আন্দোলনে লাঠি-কাঁদানে গ্যাস চালানো পুলিশকর্তাদের ক্ষমাপ্রার্থনা। সরকারের পক্ষে এই দাবিগুলো মেনে নেওয়া কঠিন নয়। ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার পরে ‘ককরোচ’রাও খানিক নমনীয় হবে আশা করা গিয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যা গড়াতে দেখা গেল তা-ই হয়েছে। কিন্তু যন্তর মন্তর এবং দেশের অন্যত্র নিট-কাণ্ড ঘিরে বিক্ষোভে ইতি পড়লেই সরকারের সব বিপদ কেটে যাবে, এমন মনে করার কারণ আছে কি?

নিট কি উপলক্ষ?

অনেকেরই মতে, নিট-আন্দোলন উপসর্গ মাত্র। আসল রোগ অন্য। সেটা বাসা বেঁধেছে দেশের অর্থনীতিতে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, প্রতি বছর যে সংখ্যায় শিক্ষিত যুবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরোচ্ছেন, তত সংখ্যায় কর্মসংস্থান হচ্ছে না দেশে। শ্রমশক্তি সমীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘ব্লুমবার্গ’-এর বক্তব্য, ২০২৫ সালে ভারতে প্রতি ১০০ জন নতুন স্নাতকদের মধ্যে মাত্র চার জন নির্ভরযোগ্য চাকরি পেয়েছেন। যে চাকরি চুক্তিভিত্তিক, যাতে সবেতন ছুটি এবং সামাজিক নিরাপত্তা রয়েছে। তাই বেকার বলে ‘আরশোলা’ বা ‘সমাজের পরজীবী’ ইত্যাদি কটাক্ষ কী ভাবে বিশাল যুব সম্প্রদায়কে খেপিয়ে তুলতে পারে তা টের পাইয়ে দিল ‘আরশোলা’দের আন্দোলন। ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের পর যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে অভিজিৎ বলেন, ‘‘আমাদের আরশোলা বলার জন্য প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে ধন্যবাদ। তিনি আমাদের আরশোলা না বললে আমার দেশে ফেরা হত না। এই আন্দোলনও হত না।’’ শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা নিয়ে ‘আরশোলা’-প্রধানের মন্তব্য, ‘‘আপনারা যদি ভয় না-পান, সরকারের কাছে মাথা নত না-করেন, তবে আমরা যে কারও পদত্যাগপত্র আদায় করতে পারি।’’ মঞ্চ থেকে সকলকে প্রণাম জানিয়ে অভিজিৎ মুষ্টিবদ্ধ হাত দেখিয়ে বলেন, ‘‘এই সরকারে ইস্তফার চল নেই। তবে আমরা বলি, দুনিয়াও মাথানত করবে, শুধু নত করার মতো লোকের দরকার হয়।”

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর তৃতীয় দফার বৈঠকে কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী এবং সিজেপি-র দুই মুখপাত্র।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর তৃতীয় দফার বৈঠকে কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী এবং সিজেপি-র দুই মুখপাত্র।

এ ছাড়াও মোদীর কপালের ভাঁজ গভীর করেছে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ। তেলের দাম বেড়েছে, পাল্লা দিয়ে দাম বেড়েছে জিনিসপত্রের। টাকার দাম তলানিতে। কমেছে বিদেশি পুঁজি আসার পরিমাণ। শিল্পে লগ্নি হয়তো হচ্ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে কাজের সুযোগ বাড়ছে না। ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ করার, ‘আত্মনির্ভর’ করার, দেশের অর্থনীতিকে বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম করার আশ্বাস দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর সামনে অর্থনীতির এই মৌলিক সমস্যাই মূল চ্যালেঞ্জ।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় হয়তো জ্বরের উপশম হবে, তবে সংক্রমণ দূর হবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ছবি: পিটিআই এবং রয়টার্স।

Cockroach Janata Party Modi Government NEET Case

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy