ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যুর পর থেকেই প্রশ্নের মুখে আইআইটি বম্বে। পড়ুয়াদের বিক্ষোভ, অচলাবস্থা, সাহিলের মৃত্যুর তদন্ত— শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। সেই আবহে এ বার পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করা বা টোকাটুকির মোকাবিলায় নিয়মাবলি পরিবর্তনের জন্য একটি খসড়া প্রস্তুত করছে আইআইটি বম্বে।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। প্রথমে ওই অভিযুক্ত প়ড়ুয়ার বক্তব্য শোনা হবে। তার পরই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবেন কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে কী নিয়ম? যদি কোনও পড়ুয়া পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েন, তবে তাৎক্ষণিক তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়ে যায়। নতুন নিয়মের খসড়ায় সেটি কিছুটা পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের নিজের বক্তব্য কর্তৃপক্ষের সামনে রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইআইটি বম্বের এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিলের ঝুলন্ত দেহ তাঁর হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয়। সেই মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই উত্তাল হয়ে ওঠে আইআইটি বম্বের ক্যাম্পাস। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জাতিবৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে সরব হয়েছেন সাহিলের বাবা-মা। থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক ভাবে সাহিলের মৃত্যুর পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিলেন। সেই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল, পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে ঢুকেছিলেন ওই ছাত্র। চ্যাটজিপিটি খুলে গোটা প্রশ্নপত্রটাই তাতে আপলোড করে দিয়েছিলেন। সেখান থেকে উত্তর সংগ্রহ করে লিখছিলেন। এই প্রক্রিয়ার সময় হলঘরে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপকের কাছে তিনি ধরা পড়ে যান। এর পর বিভাগীয় প্রধান তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু ওই ঘটনার কোনও প্রভাব ছাত্রের কেরিয়ারে পড়বে না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন অধ্যাপকেরা, দাবি করেছিলেন কর্তৃপক্ষ। যদিও পড়ুয়াদের লাগাতার বিক্ষোভের মুখে ওই বিবৃতি প্রত্যাহার করে নেন আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ। এমনকি, ওই বিবৃতি প্রকাশ করার জন্য ক্ষমাও চান।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, আইআইটি বম্বের ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ে মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবার অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ ডুল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত শুক্রবার অধ্যাপক ডুল্লাকে জেরা করে অপরাধদমন শাখা। তবে সাহিলকে হেনস্থা করা বা জাতপাত তুলে অপমান করার যে অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে, তা খণ্ডন করেছেন অধ্যাপক।