আইআইটি বম্বেতে ছাত্রমৃত্যুর বিতর্কের আবহে এ বার প্রকাশ্যে এল শিক্ষক নিয়োগের পরিসংখ্যান। অল ইন্ডিয়া ওবিসি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি গৌড় কিরণ কুমারের দায়ের করা একটি আরটিআই-এর ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, দেশের অন্যতম সেরা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির অধ্যাপকদের প্রতিনিধিত্ব নামমাত্র।
চলতি মাসের শুরুতেই সাহিল ওয়াকোডে নামে ২২ বছরের এক দলিত ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনায় আইআইটি বম্বের ভূমিকা নিয়ে দেশ জুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। মিড-সেমেস্টার পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে ধরা পড়ার পর ওই ছাত্র আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। আইআইটি কর্তৃপক্ষের দাবি, ধরা পড়ার পর ওই ছাত্রকে কাউন্সেলিং করানো হয়েছিল। কিন্তু মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের ছেলেকে জাতিগত কটূক্তি করে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত চলছে।
এই বিতর্কের আবহেই হিন্দুস্তান টাইমসের প্রকাশ্যে আনা আরটিআই রিপোর্ট অনুযায়ী, আইআইটি বম্বেতে বর্তমানে ৪১২ জন অধ্যাপকের মধ্যে মাত্র ৫ জন এসসি (তফসিলি জাতি) এবং ৬ জন ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) সম্প্রদায়ভুক্ত। এসটি (তফসিলি উপজাতি) সম্প্রদায়ের কোনও প্রফেসরই নেই। অন্য দিকে, অ্যাসোসিয়েট এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট অধ্যাপক স্তরে মোট ৩৬৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ২৯ জন এসসি, ৮ জন এসটি এবং ৩৫ জন ওবিসি।
আরও পড়ুন:
কিরণ কুমার এর আগে ফেব্রুয়ারিতেও একটি আরটিআই করেছিলেন। সেই রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, তিন স্তর মিলিয়ে এসসি শিক্ষকের সংখ্যা ৩৩, এসটি ৮ (১ জন অ্যাসোসিয়েট এবং ৭ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট) এবং ওবিসি ৪১। কিরণ কুমার জানান, ওই পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানে এসসি শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র এক জন বেড়েছে।
এই পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করে দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন কিরণ কুমার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ফ্যাকাল্টিতে যদি এসসি, এসটি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব প্রায় শূন্য বা নগণ্য হয়, তা হলে এই প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া বা গবেষকেরা যে জাতিগত বৈষম্যের শিকার হন, তা কর্তৃপক্ষ বুঝবেন বা সমাধান করবেন কী করে?”
তাঁর মতে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যেখানে বৈচিত্র্যপূর্ণ ফ্যাকাল্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাপরিবেশের গুরুত্ব বোঝে, সেখানে ভারতের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলি যোগ্য এসসি, এসটি এবং ওবিসি পিএইচডি ধারীদের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনকি যাঁরা আইআইটি বা বিদেশের নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পেয়েছেন, তাঁরাও ব্রাত্য থেকে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।