এল নিনোর প্রভাব কাটিয়ে জুলাইয়ে দাপটে ব্যাট চালিয়েছে বর্ষা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যা পরিস্থিতি পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। কিন্তু অগস্টে তার সেই ‘ফর্ম’ দেখা যাবে না, এমনটাই মনে করছে ভারতীয় মৌসম ভবন (আইএমডি)। তারা জানিয়েছে, সারাদেশে গড়ে স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টি হতে পারে অগস্টে। কারণ, অবশ্যই প্রশান্ত মহাসাগরে সক্রিয় হয়ে ওঠা উষ্ণ স্রোত এল নিনো।
শুক্রবার মাসিক পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেছে আইএমডি। তাতে জানানো হয়েছে, অগস্টে স্বাভাবিকের থেকে ৬ শতাংশ কম বৃষ্টি হতে পারে সারা দেশে। ১৯৭১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জলবায়ুর পরিসংখ্যান অনুসারে, এ দেশে অগস্ট মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ২৫৪.৯ মিলিমিটার।
চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরে ফিরে এসেছে এল নিনো। কিন্তু জুলাইয়ে সাগরে বেশ কয়েকটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় সেই এল নিনো মাথা তুলতে পারেনি। গোটা মাসে দেশে স্বাভাবিকের কাছাকাছি, কোথাও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে অগস্টে আর তা হবে না বলে মনে করছেন আবহবিদেরা। তাঁদের মতে, আগামী মাসে দেশে গড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। তবে গোটা দেশে নয়। উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব, পূর্ব-মধ্য ভারত এবং পূর্বের উপদ্বীপীয় অঞ্চলে স্বাভাবিকের কাছাকাছি বা তার চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে।
অগস্টের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরেও দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। তাদের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বরে আরও শক্তিশালী হতে পারে এল নিনো। বর্ষাকালের এই দ্বিতীয় ভাগে (অগস্ট-সেপ্টেম্বর) এমনিতে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ৪২২.৮ মিলিমিটার। কিন্তু চলতি বছর এল নিনোর প্রভাবে তার চেয়ে ৬ শতাংশ কম বৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছে আইএমডি।
আরও পড়ুন:
জুন মাসে দেশে যে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল, তা অনেকটাই পূরণ হয়েছে জুলাইয়ে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে, প্লাবনে প্রাণহানি ঘটেছে, বন্যার পরিস্থিতি পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। আবহবিদদের একাংশের মত ছিল, অগস্ট-সেপ্টেম্বরেও এল নিনোর প্রভাব কাটিয়ে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টি হবে। রক্ষাকবচের কাজ করবে ভারত মহাসাগর। এল নিনোর বিরুদ্ধে সেখানে এক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে যাকে বলে ভারত মহাসাগরীয় দ্বিমেরুকরণ বা ডাইপোল (আইওডি)। আবহবিদদের আশা ছিল, তার প্রভাবে দেশে বৃষ্টির ঘাটতি অনেকটাই মিটবে। চাষের কাজে সমস্যা হবে না। কিন্তু আইএমডির সাম্প্রতিক পূর্বাভাস আবার অন্য কথাই বলছে।
এল নিনো কী
কয়েক বছর অন্তর প্রশান্ত মহাসাগরে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী যে বাতাস সাধারণত উষ্ণ জলকে ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়, সেই বাতাস হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে উষ্ণ জল আবার পূর্ব দিকে ফিরে আসে এবং দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল ঘেঁষে বইতে থাকে। এই স্রোতের প্রভাবে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অংশ উষ্ণ হয়ে ওঠে। বইতে শুরু করে উষ্ণ স্রোত। একেই বলে এল নিনো। স্প্যানিশ শব্দ ‘এল নিনো’র অর্থ ‘ছোট্ট ছেলে’। শত শত বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার মৎস্যজীবীরা প্রশান্ত মহাসাগরে এই অস্বাভাবিক স্রোত লক্ষ্য করেছিলেন। স্রোতের নামকরণও করেছিলেন তাঁরা।