আমেরিকার নাম না করে একতরফা শুল্ক চাপিয়ে দেওয়া ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করাকে বিশ্বের আর্থিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় বিপদ বলে বর্ণনা করলেন ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নরেরা। একই সঙ্গে পুরোপুরি আমেরিকার ডলার বর্জন না করে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি করে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের উপরেও জোর দিলেন তাঁরা। যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমস্যা নিয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, “যখন সমুদ্র পথ সুরক্ষিত থাকবে, পণ্য চলাচলের পথ খোলা থাকবে, জাহাজের নাবিকেরা নিরাপদে থাকবেন, তখনই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অগ্রগতি হতে পারে।”
শনিবার থেকে দিল্লিতে ব্রাজ়িল, রাশিয়া, চিন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরবের মতো উঠতি অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল ১১টি দেশের ব্রিকস গোষ্ঠীর শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে। তার আগে শুক্রবার মুম্বইয়ে ব্রিকসের দেশগুলির অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নরদের বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির আকাশে এখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্যে বাধা, রক্ষণশীল নীতি, মূল্যবৃদ্ধি, রাজকোষের ঘাটতি, ঋণের বোঝার কালো মেঘ। একতরফা শুল্ক চাপানো, বাণিজ্যে অন্য বাধার ফলে উঠতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির উপরে বাড়তি বোঝা চাপছে।
ব্রিকসের অর্থমন্ত্রীরা যখন মুম্বইয়ে নিজেদের মধ্যে নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানোর কথা বলছেন, তখন দিল্লিতে ব্রিকস-এর ‘বিজ়নেস ফোরাম’-এ বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালও ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সংযুক্ত করার উপরে জোর দিয়েছেন। ভারত নিজের ইউপিআই ব্যবস্থাকে বিশ্বের ১১টি দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে ফেলেছে। ব্রিকসের দেশগুলির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই তালিকায় রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের রাস্তা খোঁজা হচ্ছে। তিন বছর আগে ব্রিকস নিজস্ব মুদ্রার কথা ভাবলেও ট্রাম্পের শুল্কের হুমকি ও বিরোধিতার মুখে সেই ভাবনা হিমঘরে। কিন্তু ডলারের পাশাপাশি বিকল্প পথে আর্থিক লেনদেনের রাস্তাও ব্রিকসের দেশগুলিকে খুঁজতে হচ্ছে। কারণ দুই বড় দেশ, রাশিয়া, ইরান আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কোপে পড়ছে। ‘বিজ়নেস ফোরাম’-এ শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, বেআইনি ভাবে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপানো হচ্ছে।