সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ দিনে লোকসভায় এলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লির ছাত্রবিক্ষোভে পড়ুয়াদের উপর পুলিশকে ছর্রা গুলি, লাঠি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল কে, এই প্রশ্ন তুলে সংসদে শাহের বিবৃতি দাবি করেছিল বিরোধীরা। এত দিন সংসদ ভবনে নিজের অফিসে থাকলেও এই প্রথম লোকসভার বাদল অধিবেশনে যোগ দেন শাহ। ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অন্য মন্ত্রীরাও।
বৃহস্পতিবার বন্দে মাতরম্ গেয়ে লোকসভার অধিবেশন শুরু হয়। এই প্রথম এই গান গেয়ে অধিবেশন শুরু হল। সম্প্রতি জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন-র মতোই সমান মর্যাদা দেওয়া হয়েছে জাতীয় গান হিসাবে স্বীকৃত বন্দে মাতরম্কে। সরকারি অনুষ্ঠানেও জাতীয় সঙ্গীতের আগে বন্দে মাতরম্ গাইতে বলা হয়েছে। তার পর এই প্রথম লোকসভার অধিবেশন বন্দে মাতরম্ দিয়ে শুরু হল। বন্দে মাতরমের ছ’টি স্তবক গাওয়া শেষ হওয়ার পর স্পিকার ওম বিড়লা লোকসভার অধিবেশন অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করে দেন। ফলে শাহ লোকসভায় এলেও ছাত্রবিক্ষোভে পুলিশি ‘দমনপীড়ন’ নিয়ে আলোচনা বা বিতর্ক হল না অধিবেশনের শেষ দিনেও।
অধিবেশন শুরুর আগে বৃহস্পতিবার সকালেও সংসদ চত্বরে, মকর দ্বারের সামনে স্লোগান-যুদ্ধ চলে শাসক এবং বিরোধী সাংসদদের মধ্যে। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে। বিক্ষোভে যোগ দেয় তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র মতো দলগুলিও। পাল্টা ঝাড়খণ্ডের ছাত্রবিক্ষোভে লাঠি চালানোর প্রতিবাদে রাহুল গাঁধী এবং বিরোধী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন এনডিএ-র সাংসদেরা।
গোড়া থেকেই ছাত্র আন্দোলনে কার নির্দেশে পুলিশ লাঠি ও পেলেট গান চালিয়েছে, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের বিবৃতি দাবি করে আসছেন রাহুলেরা। অন্য দিকে শাহের দাবি, একটি বিবৃতি দিয়ে ওই আন্দোলনের ব্যাপ্তি বোঝানো সম্ভব নয়। সামগ্রিক আলোচনা প্রয়োজন। সংসদের শেষ দু’দিনে যাতে অন্তত ছাত্র সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তার জন্য বুধবার লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে তাঁকে বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন শাহ। অধিবেশন উঠে যাওয়ার মুখে কেন ওই উদ্যোগ, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা।
গোটা বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে গিয়েছে লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন। শাহের বিবৃতির দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছিল বিরোধী দলগুলি। এই আবহে বুধবার শাহ বলেন, “আমি সংসদীয় মন্ত্রী হিসাবে গোড়া থেকেই আলোচনা শুরুর জন্য বিরোধীদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বিরোধীরা পালাচ্ছেন। তাঁরা আসলে আলোচনা চান না।’’ শাহের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাহুল বলেন, “ছাত্রদের উপর কে গুলি চালাল? পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে ছাত্রদের মারার নির্দেশ কে দিল? যদি অমিত শাহ এই নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তা হলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। আমরা তাঁর বক্তৃতা শুনতে আগ্রহী নই।”