দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনার মাঝেই ভারতের উপরে নতুন করে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যদিও তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি মার্কিন আইনসভা। টানাপড়েনের মাঝে এ বার আমেরিকাকে শুল্ক নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিল ভারত। একতরফা ভাবে কোনও পদক্ষেপ না করার জন্যও বলেছে নয়াদিল্লি।
গত জুনেই ভারতের উপরে এই শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর)-র প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, বলপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে অন্তত ৬০টি দেশের উপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। তাতে ভারতের পাশাপাশি চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজ়িল, সুইৎজ়ারল্যান্ডের মতো দেশগুলির উপরেও সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক-কোপের প্রস্তাব রয়েছে। ব্রিটেন, কানাডা, মেক্সিকো, তাইওয়ানের উপরে চাপানো হতে পারে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক।
তবে আমেরিকার প্রশাসন যে তদন্তের প্রেক্ষিতে এই প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। এ অবস্থায় মার্কিন প্রশাসনকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করার জন্য বলেছেন ভারতের বাণিজ্য দফতরের যুগ্মসচিব ব্রিজমোহন মিশ্র। বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে যাতে আমেরিকা একতরফা ভাবে কোনও পদক্ষেপ না-করে, সে কথাও জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হোক। বলপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা ভারতের সাংবিধানিক কর্তব্য। আন্তর্জাতিক আইনের মতোই এটিকে গুরুত্ব দেয় নয়াদিল্লি। সব দিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি বলেই মনে করছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পরই নতুন শুল্কনীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যে দেশ মার্কিন পণ্যে যত পরিমাণ শুল্ক চাপিয়েছে, আমেরিকাও সেই পরিমাণ শুল্ক আদায় করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির থেকে। এই নিয়ে বিস্তর টানাপড়েন চলে। ভারতের উপরেও মোট ৫০ শতাংশ (রাশিয়ার থেকে তেল কেনার কারণে ‘জরিমানা’ বাবদ ২৫ শতাংশ-সহ) শুল্ক বসিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। পরে গত ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতির পরে তা কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার কথা বলা হয়।
এর পরে ট্রাম্পের শুল্কনীতিও ধাক্কা খায় মার্কিন আদালতে। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, ট্রাম্প যে ভাবে বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক চাপিয়ে যাচ্ছেন, তার কোনও আইনি অনুমোদন নেই। আমেরিকার আদালতে ধাক্কা খাওয়ার পরই বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক চাপানোর বিকল্প উপায়ের খোঁজ শুরু করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।