প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির একটি মাইলফলক তৈরি হল। সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভারত তার ব্রহ্মস এবং অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করবে ইন্দোনেশিয়াকে। এর আগে ভিয়েতনাম এবং ফিলিপিন্স-এর সঙ্গেও নয়াদিল্লির এই চুক্তি হয়েছে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত কূটনীতিতে বিষয়টি ভারতের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় জয় বলে দাবি বিদেশ মন্ত্রকের কর্তাদের। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, ইন্দোনেশিয়াকে প্রায় ৬৩ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা রফতানি করার বিষয়টি আজকের চুক্তিতে নিশ্চিত হয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রতিরক্ষা বাজারে যা একটি বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সমুদ্রপথে নিরাপত্তা, দুর্লভ খনিজ সরবরাহ ক্ষেত্রেও আলোচনা ফলপ্রসূ। আজ মোট ১৪টি চুক্তিপত্র এবং ছ’টি ঘোষণা হয়েছে দ্বিপাক্ষিক স্তরে। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় নিজেদের সঙ্গে চিনের পার্থক্য স্পষ্ট করতে চেয়ে বলেছেন, ভারতের লক্ষ্য উন্নয়ন, সম্প্রসারণ নয়। তাঁর কথায়, “উন্মুক্ত, উদার এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলা ভারত-প্রশান্ত মহাসগারীয় নীতিতে বিশ্বাস করে ভারত। নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীনতারও পক্ষপাতী আমরা। আমরা উন্নয়নের পথ ধরে চলতে চাই, সম্প্রসারণবাদের পথ ধরে নয়।” পাশাপাশি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, ‘‘ভারত ও ইন্দোনেশিয়াকে সমুদ্র (ভারত মহাসাগর) বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং রামায়ণ ও মহাভারতের ঐতিহ্য আমাদের সংযুক্ত করেছে।’’
এ দিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ভারত ইন্দোনেশিয়াকে আরও ‘সুপারসনিক ক্রুজ়’ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মস’ সরবরাহ করবে, যা ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর উপকূলীয় প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে। এর পাশাপাশি কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মালাক্কা প্রণালীর কাছে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর যৌথ ভাবে উন্নয়নের সিদ্ধান্তও নিয়েছে দুই দেশ। ভারতের গ্রেট নিকোবর বন্দর থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরে অবস্থিত এই প্রকল্পটি পরিকল্পিত ‘ট্রান্সশিপমেন্ট হাব’-এর পরিপূরক হবে এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দু’দেশের সামুদ্রিক সংযোগ বৃদ্ধি করবে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে, সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যে ভারত ইন্দোনেশিয়ায় ইস্পাত, নিকেল এবং বিরল-মৃত্তিকা স্থায়ী চুম্বকের উৎপাদন কেন্দ্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
অন্য দিকে প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো ঘোষণা করেছেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া ডিজিটাল গণ পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করবে। এর মধ্যে ভারতের ইউপিআই এবং ইন্দোনেশিয়ার কিউআরআইএস (কিউআর পেমেন্ট কোড)-এর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত সংযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে বালি ও অন্যান্য গন্তব্যে ভ্রমণকারী ভারতীয় পর্যটক এবং ব্যবসায়ীরা সরাসরি তাঁদের ফোন থেকে সহজে ও সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন। শিক্ষার প্রসারে ইন্দোনেশিয়ায় আইআইটি ও আইআইএম-এর ক্যাম্পাস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।