ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি এখনও। কিন্তু গত এক দশক ধরে ধারাবাহিক ভাবে অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি বাড়াচ্ছে ভারত। সদ্যপ্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ড্রোন, লেজ়ার গাইডেড গোলা, ইলেকট্রনিক্স এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ও প্রত্যাঘাত ব্যবস্থাকে ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
সরকারি পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যা নতুন নজির তৈরি করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই অঙ্ক ছিল ২৩,৬২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে রফতানি বেড়েছে ৬২.৬৬ শতাংশ। আর বেসরকারি অস্ত্র নির্মাতার সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায় রফতানিকারক সংস্থার সংখ্যা ১২৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪৫। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্লোগানে ভর করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ভারত ক্রমশ ‘আত্মনির্ভর’ হয়ে উঠছে, পরিসংখ্যান থেকে তা স্পষ্ট। একসময়ে বিশ্বের উন্নত দেশগুলির অস্ত্রের জন্য মুখাপেক্ষী থাকা ভারত বর্তমানে বিশ্বের ৯০টি দেশকে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি করছে। সরকারি-বেসরকারি অর্থানুকুল্যে ভর করে গত এক দশকে অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি ৩০ গুণের বেশি বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি।
আরও পড়ুন:
শুধু অর্থের অঙ্ক নয়, বৈচিত্র রয়েছে রফতানির ধরনেও। বদলে যাওয়া আন্তর্জাতিক সমরাস্ত্রের বাজারে যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক, ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি দ্রুত চাহিদা বাড়ছে নজরদারি ও হানাদার ড্রোন (লয়টারিং মিউনিশন), প্রিসিশন-গাইডেড গোলা (হাউইৎজ়ার গোত্রের কামানে ব্যবহারযোগ্য), লেজ়ার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র, বৈদ্যুতিন সামরিক সরঞ্জাম এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার। সামরিক সংঘাতে লিপ্ত দেশগুলি এমন অস্ত্র খুঁজছে যা আরও দূরে যেতে পারে, নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে পারে, স্বয়ংক্রিয় ভাবে কাজ করতে পারে এবং, প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় কম খরচে পাওয়া যায়। আর দ্রুতগতিতে সেই বাজারে প্রবেশ করছে ভারতীয় নির্মাতারা। যদিও ২০২০ সালে মোদী সরকার ঘোষিত ‘প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রফতানি নীতি’ (ডিপিইপিপি)-তে ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এখনও অনেকটা পথ হাঁটা বাকি। ডিপিইপিপি-তে ২০২৫ সালের মধ্যে ৩৫ হাজার কোটি টাকার (তৎকালীন হিসাবে ৫০০ কোটি ডলার) অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রফতানির লক্ষ্য ছোঁয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা এখনও ছোঁয়া সম্ভব হয়নি।