তেলঙ্গানার স্টার্ট আপ সংস্থা দীপা ডিফেন্সের তৈরি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ‘উগ্রম’-এর কার্যকারিতার পরীক্ষা সফল হয়েছে। ‘ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা’ (‘ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন’ বা ডিআরডিও)-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মাত্র ১০০ দিনে তৈরি করা অ্যাসল্ট রাইফেলটি সব ধরনের আবহাওয়ায় সফল ভাবে ভারতীয় সেনার ‘জেনারেল স্টাফ কোয়ালিটেটিভ রিকোয়ারমেন্ট (জিএসকিউআর) ট্রায়াল’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞদের ‘বোর্ড ট্রায়াল’-এ উত্তীর্ণ হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর।
ডিআরডিও-র অধীনস্থ সংস্থা আর্মামেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাব্লিশমেন্ট (এআরডিই)-এর প্রাথমিক নকশায় কেন্দ্রীয় আধাসেনা এবং বিভিন্ন রাজ্য পুলিশের কাউন্টার ইনসারজেন্সি ফোর্সগুলির (বিশেষ বাহিনী) চাহিদার কথা মাথায় রেখে ৭.৬২ মিলিমিটার বোরের এই স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বানানো হয়েছে। ৫১ ক্যালিবারের এই রাইফেলের পাল্লা ৫০০ মিটার এবং এর স্বয়ংক্রিয় মোডে দ্রুত গুলিবর্ষণ সম্ভব। বর্তমানে আধাসেনার মূল অস্ত্র ৫.৫৬ মিলিমিটার ইনসাস। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ইনসাস রাইফেলের কার্যকর পাল্লা ৪০০ মিটার। কিন্তু এর অপেক্ষাকৃত কম ওজনের গুলির মারণক্ষমতা কম বলে অভিযোগ রয়েছে। ৭.৬২ মিলিমিটারের ‘উগ্রম’ সেই খামতি মেটাতে সক্ষম হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর।
আরও পড়ুন:
দীপা ডিফেন্সের আধিকারিক শিবু জোসেফ জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থা ২০২১ সালে ‘উগ্রম’ উৎপাদনের লাইসেন্স পায় এবং এর পর হায়দরাবাদের অদূরে তেলঙ্গানা সরকারের বরাদ্দ করা ১৩ একর জমিতে একটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ডিআরডিও-র ‘আর্মামেন্ট অ্যান্ড কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং’ (এসিই)-এর ডিরেক্টর জেনারেল শৈলেন্দ্র গোডে প্রথম সর্বসমক্ষে এনেছিলেন ‘উগ্রম’-কে। জানিয়েছিলেন, মাত্র ১০০ দিনের প্রচেষ্টায় রাইফেলটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর পরে রাইফেলটির কার্যকারিতার পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে চলা সেই পরীক্ষায় পাশ করেছে ‘উগ্রম’। বর্তমানে ভারতীয় সেনার পদাতিক বাহিনী মূলত রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি একে-২০৩ রাইফেল ব্যবহার করে। কালাশনিকভ সিরিজের সর্বাধুনিক সংস্করণটি সব ধরনের আবহাওয়াতেই অত্যন্ত কার্যকরী। উত্তরপ্রদেশের অমেঠীতে ওই রাইফেল উৎপাদনের কারখানা গড়া হয়েছে। কিন্তু গত সাড়ে চার বছর ধরে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের কারণে একে-২০৩ উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে বলে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি। গ্যাস-চালিত ‘রোটেটিং বোল্ট সিস্টেম’-যুক্ত ‘উগ্রম’-এর ওজন চার কেজিরও কম। ফলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলেও সহজের এই বহন করতে পারবেন বিএসএফ, সিআরপিএফ, আইটিবিপি-র জওয়ানেরা।